মথুরাপুর ধর্মপল্লীর অর্ন্তগত কাতুলী গ্রামে উদযাপিত হলো সাধু আন্তনীর পর্ব দিবস

কাতুলী গ্রামে উদযাপিত হলো সাধু আন্তনীর পর্ব দিবস

আজ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতায় অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের মথুরাপুর ধর্মপল্লীর অর্ন্তগত কাতুলী গ্রামে সাধু আন্তনীর পর্ব দিবস।

নয় দিনব্যাপী নভেনা প্রার্থনা ও খ্রিস্টযাগ উৎসর্গের মধ্যদিয়ে খ্রিস্টভক্তদের আধ্যাত্নিক প্রস্তুতির পর উদযাপিত হয়েছে এই সাধু আন্তনীর পর্ব উৎসব।

এতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত বৃদ্ধ হতে শিশু পর্যন্ত মহান সাধু আন্তনীর বিপুল সংখ্যক ভক্তরা এই পর্ব দিবসে যোগদান করেছেন।

পর্বীয় খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার শৈবাল রোজারিও সহ অন্যান্য ফাদার, সিস্টার এবং খ্রিস্টভক্তগণ।

এই বছর পর্ব দিবসে মূলসুর ছিল “বিশ্বাসীদের আদর্শ, যীশু ভক্ত সাধু আন্তনী”। এতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত প্রায় ১৫০০জন খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

সাধু আন্তনীর পর্বে অংশগ্রহণকারীগণ

বিশপ জের্ভাস রোজারিও খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে বলেন, “সাধু আন্তনী এক সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে পারিবারিক সমস্ত মায়া ও বিলাসিতা ত্যাগ করেন। তিনি দরিদ্র মানুষের সাথে মিশে গিয়েছেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি আজীবন প্রজ্ঞা ও নম্রতার পথে চলেছেন।”

বিশপ খ্রিস্টভক্তদের উদ্দেশ্যে  আরো বলেন, “আমাদের উচিত নিজেদের অহংকার ও নেতিবাচক মানসিকতা ত্যাগ করে নিজেকে চেনা। সাধু আন্তনীর মতো নিজেকে বিনয়ী রেখে নিজের এবং অন্যের পাপের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য।”

পর্বে অংশগ্রহণকারী কাতুলী গ্রামের খ্রিস্টভক্ত পল রোজারিও তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “প্রতিবছর সাধু আন্তনীর এই পর্বের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার বিশ্বাস সাধু আন্তনী সবার মনোবাসনা পূর্ণ করবেন।”

মথুরাপুর ধর্মপল্লীর অর্ন্তগত কাতুলী গ্রামে উদযাপিত হলো সাধু আন্তনীর পর্ব দিবস

সাধু আন্তনী ১৫ আগস্ট ১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের বর্তমান রাজধানী লিসবন শহরের জন্মগ্রহণ করেন। তার কর্মজীবন কাটে ইতালির পাদুয়ায়। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

সাধু আনন্তী ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, ঈশ্বর ও মানবপ্রেমী, ধার্মিক এবং দয়ালু ও দরদী এক মহান সাধু। তিনি মানুষকে ঈশ্বরের দয়া লাভ করাতে সর্বদায় সাহায্য করেছেন। দরদী হৃদয় নিয়ে তিনি দরিদ্র ও পাপীদের নিকট ঈশ্বরের ঐশভালবাসা ও দয়ার কথা প্রচার ও প্রকাশ করেছেন।

পরিশেষে ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার শৈবাল রোজারিও সাধু আন্তনীর পর্বে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। - প্রতীক রোজারিও

Bengali pop up image