রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হলো ৬০তম বিশ্ব যোগাযোগ দিবস ও লেখক কর্মশালা
গত ১৬ থেকে ১৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ৬০তম বিশ্ব যোগাযোগ দিবস ও লেখক কর্মশালা।
এবারের বিশ্ব যোগাযোগ দিবসের মূলসুর ছিল, “মানব কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল সংরক্ষণ”। এতে রাজশাহী এবং জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী, সেমিনারী ও হোস্টেল থেকে আগত ৫৩জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিত
উক্ত দিবসে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের জুডিসিয়াল ভিকার ফাদার উইলিয়াম মুরমু, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আহ্বায়ক ফাদার সাগর কোড়াইয়া ও সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর সম্পাদক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু।
সভাপতির বক্তব্যে ফাদার উইলিয়াম মুরমু বলেন, “আমাদের যোগাযোগ হতে হয় ঈশ্বর, প্রকৃতি ও মানুষের সাথে। বর্তমান সময় হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আমাদের সামনে যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তবে আমাদেরই বেছে নিতে হয় কোন মাধ্যম ব্যবহার করে আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করবো।”
রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আহ্বায়ক ফাদার সাগর কোড়াইয়া বলেন, “আমরা অধিকাংশই স্মার্টফোন ব্যবহার করি। এছাড়াও ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলো ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে সবাই সাংবাদিক হয়ে উঠি। কারণ এই সকল মাধ্যমগুলোতে লেখা, ছবি ও ভিডিও আপলোড করে থাকি। তবে কী আপলোড করি সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের পাশের ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ নেই কিন্তু দূরের ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ রাখি; যা কখনই কাম্য নয়।”
বিশ্ব যোগাযোগ দিবস উপলক্ষে সকালের সেশনে সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর সম্পাদক ফাদার বুলবুল রিবেরু ‘লেখালেখি: প্রেক্ষিত প্রতিবেশী প্রকাশনী ও বাংলাদেশ মণ্ডলীর ভাবনা’ সমন্ধে আলোচনা করেন।
এছাড়াও বিশ্ব যোগাযোগ দিবস উপলক্ষে পোপ চতুর্দশ লিও’র বাণীর উপর আলোচনা করেন ফাদার দিলীপ এস. কস্তা। বিকালের সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সোমা দেব ‘মনের আনন্দে লেখালেখি: লেখালেখির কৌশল-ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’ বিষয়ে কথা বলেন।
এছাড়াও একই বিভাগের অধ্যাপক তানভীর আহমদ ‘সাংবাদিকতা পেশা ও ঝুঁকি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নের সুযোগ’ বিষয়ে আলোচনা করেন।
এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও ও জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের বিশপ মনোনীত পল গমেজ।
বিশপ জের্ভাস রোজারিও বক্তব্যে বলেন, “বর্তমানে পৃথিবীতে ও বাংলাদেশে নানা ধরণের সমস্যা ও অরাজকতা বিরাজমান। এই অন্ধকারে আমাদের প্রত্যেককে আলো হয়ে উঠতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “যিশু খ্রিস্ট যে আলো জ্বেলে গেছেন তা যেন আমরা আমাদের ব্যক্তিজীবনেও প্রতিনিয়ত জ্বালিয়ে রাখি। আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব ঠিকই কিন্তু প্রযুক্তি যেন আমাদের ব্যবহার না করে।” - বরেন্দ্রদূত