ঢাকার মগবাজার এজি চার্চে বিভিন্ন মণ্ডলীর যুবাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শান্তির জন্য প্রার্থনা

এজি চার্চে বিভিন্ন মণ্ডলীর যুবাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শান্তির জন্য প্রার্থনা

গত ১৬ মে ২০২৬ খিস্টাব্দ, বিভিন্ন মন্ডলীর যুবাদের নিয়ে শালোম এবং এজি চার্চের আয়োজনে ঢাকার মগবাজারে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান।

এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ বিভিন্ন সংগঠন, সংঘ, হোস্টেল এবং বিভিন্ন মণ্ডলীর ফাদার, সিস্টার, যুবা এবং সাধারণ খ্রিস্টভক্তগণ সহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে  ছিলো প্রার্থনা, বাণীপাঠ শ্রবণ এবং ভক্তিমূলক গান। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাষ্টর আশা এম কাইন, তিনি তার বক্তব্যে সকলকে সুস্বাগত জানান এবং প্রেরিত শিষ্যদের উপর পবিত্র আত্নার অবতরণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

উক্ত এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানে সামগ্রিকভাবে খ্রিষ্টভক্তদের  জীবনে বাইবেলের শিক্ষা, যীশু খ্রিস্টের মাধ্যমে পরিত্রাণ  লাভ ,পবিত্র আত্মার দ্বারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ এবং ঐশ্বরিক নিরাময়ের বিষয়গুলো সার্বিকভাবে তুলে ধরা হয়।

বিশেষভাবে যুবা তথা হতাশাগ্রস্থদের জীবনে পবিত্র আত্নার আত্নিক শক্তি লাভের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে শালোম অতিক্ষুদ্র একটি প্রতিষ্ঠান যা  তেইজে ব্রাদার গিউম এবং পিমে ফাদারদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আরো উল্লেখ্য যে, প্রতিবছরই শালোম এবং বিভিন্ন মণ্ডলীর আয়োজনে  খ্রিস্টভক্তবৃন্দ একত্রিত হয়ে এই আন্তঃমণ্ডলীক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মন্ডলীর যুবা ভাই ও বোনেরা

উক্ত এই প্রার্থনায় দুইজন যুবা তাদের জীবনের খ্রিস্টিয় সাক্ষ্যদান করেন। জিনিয়া জোয়ান্না পালমা তার সাক্ষ্যদানকালে প্রকাশ করে যে, “ছোটবেলা থেকেই ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস কম ছিলো, সে কখনোই গীর্জামুখি হতো না। এমনকি বরিবারেও পবিত্র খ্রিষ্টযাগে সে অংশগ্রহণ করতো না।

তিনি আরো বলেন, “ঈশ্বরের সাথে এবং পবিারের সবার সাথে ও তার  সর্ম্পক খুবই খারাপ ছিলো। তবে কোন একদিন হঠাৎ সে র্গীজায় প্রবেশ করলো এবং নিজের মধ্যে ঈশ্বরের আর্শীবাদ উপলব্ধি করলো। তার মনে হলো পবিত্র আত্না তার হৃদয় মন স্পর্শ করছে। এরপর থেকে সে যিজাস ইয়ুথ সংঘের সাথে যুক্ত হলো।

মূলত এই সংঘ তাকে ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়ার পথ দেখিয়েছে, আত্নিক অনুপ্রেরণা দান করেছে। সে নিজের মধ্যে ঐশ্ব ভালোবাসা অনুভব করছে। মন্দ জীবন থেকে নিজেকে পরিবর্তন করেছে। এখন সে নিজেকে ঈশ্বরের একজন আর্শীবাদিত সন্তান হিসেবে মনে করে,” বলেন পালমা।

 আরেকজন যুবা সেতু  তার জীবন সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, “সবাই জানতো সে খুব ভালো জীবনযাপন করে। কিন্তু একমাত্র সে নিজেই জানতো কতটা খারাপ কাজের সাথে সে জড়িত ছিলো। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের একটা ঘটনা তার মন পরিবর্তন করলো। সে বছর তার বাবা হঠাৎ স্ট্রেক করেছিলো। তার বাবার এই অসুস্থতায় সে অনেকটা ভেঙ্গে পরলো। কোনভাবেই সে সান্ত্বনা খুজে পাচ্ছিলো না।

প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মন্ডলীর যুবারা

তিনি আরো বলেন, “সে অনেক প্রার্থনা করতে লাগলো, এবং  বাইবেলের অনেক পদ সে  পাঠ করলো। তবে তার মনে এই প্রশ্ন ও আসলো যে আমি কি ঈশ্বরের কথা শুনি যে তিনি আমার কথা শুনবেন? এর পর থেকে সে নিজেকে পরিবর্তন করলো। খারাপ পথ এবং সঙ্গ ত্যাগ করে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে লাগলো। সে মনে করে দেহ মনে ও আত্নায় পবিত্র হলেই পবিত্র আত্না আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে।

রেভারেন্ড জেসন অধিকারী বলেন “পবিত্র আত্মা ও আগুন বলতে ঈশ্বরের শক্তি, শুদ্ধতা, আত্মিক জাগরণ এবং বিশ্বাসীদের জীবনে পরিবর্তনের কাজকে বোঝানো হয়েছে।

এছাড়া আরো অনেক পাষ্টরগণ তাদের আধ্যাত্নিক সহভাগিতা তুলে ধরেন। এছাড়া ও বিভিন্ন পাষ্টরদের সহভাগিতার মধ্যে ভক্তিমুলক গান গাওয়া ও পবিত্র আত্নার কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

পরিশেষে শালোম এর কো- অর্ডিনেটর ফাদার সাই পিমে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। - আরভিএ সংবাদ