আরও জোরদার হল পশ্চিমবঙ্গে ক্যাথলিক শরণার্থী নিরাপদ অভিবাসনের অঙ্গীকার

পশ্চিমবঙ্গের ক্যাথলিক খ্রীষ্টমণ্ডলী শরণার্থী তথা পরিযায়ী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। খ্রীষ্টমণ্ডলীর নেতৃবৃন্দ, যাজক, ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও সাধারণ প্রতিনিধিরা নিরাপদ অভিবাসন প্রচার এবং মানব পাচার ও অনৈতিক শ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছেন।

আসানসোল ধর্মপ্রদেশের চেতনা পাস্টোরাল সেন্টারে ২৪-২৫শে আগস্ট CCBI অভিবাসী কমিশন দুই দিনের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ, ধর্মীয় সংঘ এবং অভিবাসী সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলির ৪৫ জন প্রতিনিধি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলকাতার আর্চবিশপ এলিয়াস ফ্র্যাঙ্ক, পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক বিশপ পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, "অভিবাসন বর্তমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব সমস্যা এবং মণ্ডলীর কাছ থেকে আরও শক্তিশালী পালকীয় সাড়া প্রয়োজন।"

তিনি উল্লেখ করেন যে অভিবাসন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু অনেক মানুষকে শোষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বর্জনের মুখেও ফেলে দেয়। তাই অভিবাসনকে মণ্ডলীর আরও মিশনারি ও বহির্মুখী হওয়ার সুযোগ হিসেবেও তিনি বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগডোগরার বিশপ পল সিমিক, পশ্চিমবঙ্গ আঞ্চলিক অভিবাসী কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি পরিযায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও সহানুভূতি প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অভিবাসনকে কেবল অর্থনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে না দেখে, একটি মানবিক সংকট হিসেবে দেখা উচিত, যার জন্য যত্ন, সঙ্গদান ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজন।

CCBI অভিবাসী কমিশনের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ফা. জেইসন ভাদাসেরি উৎপত্তি ও গন্তব্যের ধর্মপ্রদেশগুলির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের গুরুত্বের উপর জোর দেন, যাতে পরিযায়ীরা যেখানেই যান না কেন মণ্ডলীর সঙ্গে যুক্ত থাকেন।

পোপ চতুর্দশ লিও-র শিক্ষার প্রতিফলন করে ফা. ফ্রান্সিস সুনীল রোজারিও ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বিশ্বে মানব মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন। তিনি সতর্ক করেন যে নৈতিক সুরক্ষা না থাকলে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও একচেটিয়া আধিপত্য দরিদ্র ও দুর্বল সম্প্রদায়, বিশেষ করে পরিযায়ীদের আরও প্রান্তিক করে তুলতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞ সিস্টার মুক্তা, SCN, পরিযায়ীদের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা ও আইনি বিধান ব্যাখ্যা করেন, এবং রিন্টু বাগ দুর্বল সম্প্রদায়কে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আশালয়মের কাজের উপর একটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করেন।

দ্বিতীয় দিনে ব্যবহারিক পালকীয় উদ্যোগের উপর আলোকপাত করা হয়। সিস্টার অনুশিয়া ফার্নান্দেজ দিল্লি মহাধর্মপ্রদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারীরা CCBI অভিবাসী কমিশনের জাতীয় পালকীয় পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন এবং বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

সভায় শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক কর্মসূচিতে পরিযায়ী বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় এবং বেঙ্গলি দার্জিলিং ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশনের মতো নেটওয়ার্কগুলির সম্প্রসারণকে সমর্থন করা হয়, যা দিল্লি ও কলকাতায় পরিযায়ী সম্প্রদায়গুলিকে সংযুক্ত করতে শুরু করেছে।

এই সমাবেশকে “আশার চিহ্ন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশপ সিমিক।

কর্মশালাটি সমন্বয় করেন আঞ্চলিক অভিবাসী কমিশনের সচিব ফা. ফ্রান্সিস সুনীল রোজারিও, চেতনা পাস্টোরাল সেন্টারের পরিচালক ফা. উইলসন ফার্নান্দেজ এবং ফা. থমাস মারান্ডি। সূত্র - ক্যাথলিক কানেক্ট। অনুলিখন – চন্দনা রোজারিও।

Tags
Bengali pop up image