কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের মহিলা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো আধ্যাত্মিক নির্জন ধ্যান প্রার্থনা

কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের মহিলা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো আধ্যাত্মিক নির্জন ধ্যান প্রার্থনা

গত ২২ ও ২৩ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, প্রার্থনা, ঈশ্বরের বাণী, আত্মিক আরোগ্যলাভ ও নবীকরণের এক সুন্দর আবহে কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের মহিলা কমিশনের উদ্যোগে এমাউস রিট্রিট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের বিশেষ আধ্যাত্মিক নির্জন ধ্যান প্রার্থনা। “খ্রীষ্টকে আঁকড়ে ধরে, বিশ্বাসে দীপ্তি হও”—এই মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই নির্জন ধ্যান প্রার্থনা কলকাতা মহাধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০০ জন মহিলা অংশগ্রহণ করেন।

মহিলা কমিশনের সম্পাদিকা শ্রীমতী প্রিসিলা ডি'রোজারিওর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্জন ধ্যান প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জীবন, বিশ্বাস এবং ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে ফিরে দেখার সুযোগ পান। ঈশ্বরের বাণীর আলোকে নারীর মর্যাদা, মূল্য এবং পরিবার, মণ্ডলী ও সমাজে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

দুই দিনের এই আত্মিক যাত্রায় বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক অধিবেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সমৃদ্ধ করেন ফাদার জেমস ভিসি, ফাদার স্যাম ভিসি, ফাদার জোবিত ভিসি, ব্রাদার এনক এবং ব্রাদার আয়ুষ। প্রার্থনা, স্তবগান, ঐশী করুণার জপমালা, পবিত্র সাক্রামেন্টের আরাধনা, আরোগ্য লাভের সাক্ষ্য এবং পবিত্র খ্রীষ্টযাগ—সব মিলিয়ে নির্জন ধ্যান প্রার্থনার প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে প্রার্থনা ও ঈশ্বরের সান্নিধ্যে পূর্ণ।

নির্জন ধ্যান প্রার্থনার অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ব্রাদার এনকের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য। পরিবারে আধ্যাত্মিক জীবনকে লালন ও রক্ষা করার ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তিনি তুলে ধরেন। একজন নারীর বিশ্বাস, প্রার্থনা ও জীবনযাপন কীভাবে তাঁর পরিবারকে ঈশ্বরের আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে, তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়টি বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।

নির্জন ধ্যান প্রার্থনা চলাকালীন বহু মহিলা তাঁদের জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও কাজের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁদের সাক্ষ্যে উঠে আসে বিশ্বাস, আরোগ্য, পরিবর্তন এবং নতুন আশার কথা। অনেক অংশগ্রহণকারীর কাছেই এটি ছিল এমাউস রিট্রিট সেন্টারে প্রথম আসা। তাই নীরবতা, প্রার্থনা ও ঈশ্বরের সান্নিধ্যে কাটানো এই দুই দিন তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে এক বিশেষ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

দুই দিনের এই আধ্যাত্মিক মিলন শেষ হয় নতুন বিশ্বাস, আশা ও আত্মিক শক্তি নিয়ে। অংশগ্রহণকারীরা যেন নিজেদের জীবনের নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য নতুন সাহস ও ঈশ্বরের উপর আরও গভীর আস্থা নিয়ে ফিরে যান।

এই নির্জন ধ্যান প্রার্থনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—যে খ্রীষ্টকে গভীরভাবে আঁকড়ে ধরে বাঁচে, সেই জীবনই বিশ্বাসের আলোয় দীপ্ত হয়ে ওঠে। আর সেই দীপ্ত বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে একজন নারী তাঁর পরিবার, মণ্ডলী ও সমাজে হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আশার এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

প্রতিবেদন- প্রিসিলা ডি’রোজারিও

অনুবাদ- তেরেসা রোজারিও

Bengali pop up image