নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩
গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দেশটির বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় এ দুর্যোগ আঘাত হানে।
বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায় যে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত এবং ৪০৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক, যাঁদের বেশির ভাগই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তাঁরা নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও একই দুর্যোগে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায়ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।”
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছেন। - তথ্যসূত্র: বিবিসি ও কাঠমান্ডু পোস্ট
