কারিতাস বাংলাদেশে পালিত হলো "ত্যাগ ও সেবা অভিযান" ও "কারিতাস রবিবার"
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকার কারিতাস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো প্রায়শ্চিত্তকালীন ত্যাগ ও সেবা অভিযান ও কারিতাস রবিবার।
এবারের ত্যাগ ও সেবা অভিযান ও কারিতাস রবিবারের মূলসুর ছিল “প্রার্থনা, শ্রবণ ও উপবাস: আত্মরূপান্তরের পবিত্র আহ্বান”। এতে কারিতাস বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চারটি ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ছিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ত্যাগ ও সেবার গুরুত্ব কতটুকু, আমাদের জীবনে আধ্যাত্মিক ভাবনা, পারস্পরিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সহভাগিতা।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহাপ্ৰদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ, ওএমআই। আর এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক দাউদ জীবন দাস।
আন্তধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অভিন্ন উদ্দেশ্যের এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সহমর্মিতা, আত্মত্যাগ এবং দরিদ্র মানুষের সেবার মতো মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা প্রায়শ্চিত্তকালীন মূল চেতনা এবং কারিতাসের মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।
অনুষ্ঠানে চারটি ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী চারজন বিশিষ্ট ধর্মীয় বক্তা সহভাগিতা করেন। তারা হলেন ড. ফাদার শিপন পিটার রিবেরু; কারিতাস মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির পরিচালক মোঃ কামাল উদ্দিন; ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী দাবধানানন্দ; এবং বাসাবো বৌদ্ধ বিহারের ভান্তে কল্যাণ জ্যোতি মহাথেরো।
তাঁরা প্রত্যেকে সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নৈতিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন এবং দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবিক সহায়তা প্রদানে কারিতাস বাংলাদেশের নিরলস কাজের প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্চবিশপ ডি’ক্রুজ আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা প্রদান করে বলেন, “নম্র ও আন্তরিক প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে লাভ করতে পারি। প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের নিকটবর্তী হই এবং তাঁর আশীর্বাদ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও পরিপূর্ণ করে তোলে।”
তাঁর এই বক্তব্য প্রায়শ্চিত্তকালীন ক্যাম্পেইনের মূল আহ্বান। অন্তরের জীবনকে গভীর করা এবং অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা বাড়ানোর গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
পরিশেষে কারিতাস বাংলাদেশের ১৪ জন দীর্ঘদিনের সেবা কর্মীদের তাদের নিষ্ঠা ও অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য যে, তারা ১০ থেকে ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁদের এই অবদানকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি অটল অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। - আরভিএ সংবাদ