অতিবৃষ্টিতে বন্যা ও পাহাড়ধস: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত এবং বিচ্ছিন্ন বলীপাড়া মিশনের পাহাড়ি গ্রাম

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত এবং বিচ্ছিন্ন বলীপাড়া মিশনের পাহাড়ি গ্রাম

গত ৮ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাঙ্গু নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বলীপাড়া কাথলিক মিশনের অধীনস্থ নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে করে দেশের ছয়টি বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বান্দরবান জেলার রুমা, থানচি, বলীপাড়া, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও লামা এসব পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে এবং কিছু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ক্যাথলিক মন্ডলীর অনেক পরিবার এসব দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। বিশেষ করে মারমা, ম্রো, খুমি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খ্রিস্টান পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্রামের মানুষের বাজারে যাতায়াত, স্কুলে যাওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বলীপাড়া কাথলিক মিশনের অধীনস্থ নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

বলীপাড়া কাথলিক মিশনের সহকারী পাল-পুরোহিত ফাদার সুশীল ইগ্নাসিউস সরেন, সিএসসি বলেন, “মিশনের নিকটবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হলেও মিশনের দূরবর্তী পাহাড়ি অনেক গ্রামের সঙ্গে এখনো কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎমোবাইল নেটওয়ার্ক ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেসব এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো জানা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “পরিস্থিতির ওপর বলীপাড়া কাথলিক মিশন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের জন্য প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছে যেন ভারী বর্ষণ বন্ধ ও বন্যার পানির ঢল তাড়াতাড়ি নেমে যেতে পারে এবং বন্যাকবলিত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।”

প্রাণহানি ও দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পার্বত্য তিন জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটিতে ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হবে।

জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও পাহাড়ধসের সৃষ্টি এবং জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ, ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল কিংবা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অথবা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবান, রাঙামাটি এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে,  দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

এর প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা ও সুরমা নদীর অববাহিকায় পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। - আরভিএ সংবাদ