চাঁদপুকুর ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের নিয়ে বার্ষিক সমাবেশ ও বিশ্বাসের তীর্থযাত্রা

শান্তিরাজ খ্রিষ্ট ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ধর্মপ্রদেশীয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের নিয়ে বার্ষিক সমাবেশ ও বিশ্বাসের তীর্থযাত্রা

গত ১২ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত চাঁদপুকুর শান্তিরাজ খ্রিষ্ট ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ধর্মপ্রদেশীয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের নিয়ে বার্ষিক সমাবেশ বিশ্বাসের তীর্থযাত্রা।

এই বার্ষিক সমাবেশ বিশ্বাসের তীর্থযাত্রার মূলসুর ছিল, ‘‘হাতে হাতে হাত ধরে চলরে’’। এতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে প্রায় ২১৭জন প্রতিবন্ধী ভাই-বোন, অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবক সিস্টারগণ অংশগ্রহণ করেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারাণ্ডী। আর সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক . আরোক টপ্য।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সভাপতি  টপ্য বলেন, “আমাদের প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা বছরজুড়ে অপেক্ষা করে থাকেন বার্ষিক সমাবেশের মাধ্যমে একত্রিত হবার জন্য। হাতে হাতে হাত ধরে চলরে এই হাত পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং স্বয়ং ঈশ্বরের। এই হাত ধরেই আমরা তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

আমাদের জীবনে প্রত্যেকেরই সফলতার গল্প আছে যা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এবং প্রতিবন্ধিতা জয় করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহস যোগায় আর এভাবেই আমরা সকলেই একসাথে পথ চলবো,” বলেন . আরোক।

চাঁদপুকুর ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার বাবলু কোড়াইয়া বলেন, সদ্বিচ্ছা থাকলে প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা কেউ পিছিয়ে থাকবে না এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারা সর্বত্র এগিয়ে যাবে।

বার্ষিক সমাবেশে অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ভাই ও বোনরা

মূলসুরের আলোকে ফাদার ফাবিয়ান মারাণ্ডী বলেন, “ঈশ্বরের সৃষ্টিতে কোন ভুল নেই। আমাদের যা সীমাবদ্ধতা আছে তা কোন অভিশাপ নয় বরং সৃষ্টির একটি বৈচিত্রতা এবং আমরা এই বৈচিত্রের অংশ। ঈশ্বরের সন্তান আমরা সবাই সমান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অভিভাবকদের আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা মূল্যবোধ বিষয় আলোচনা করেন ফাদার যোহন মিন্টু রায়। তিনি বলেন, “প্রভু যিশুকে নৈতিকতা, ভালবাসা, ক্ষমা এবং সেবার শিক্ষক বলা হয়। যিশুর শিষ্য হিসেবে তাঁর আদর্শ পালন করে আমরা নৈতিক গুণসম্পন্ন মানুষ হতে পারি।

আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধনসম্পদ জীবনের আসল পরিচয় নয়। আমাদের আসল পরিচয় হলো আমাদের কথা, আচরণ, অন্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক,” বলেন ফাদার রায়।

এই সেমিনারে অংশগ্রহনকারী একজন প্রতিবন্ধী ভাই তাঁর মনের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যদিও আমি হাটতে পারি না কিন্তু ঈশ্বরের ভালবাসায় আমি সুন্দর একটি জায়গায় পেয়েছি থাকার জন্য এবং সিস্টারগণ আমার যত্ন নিচ্ছে। এই যত্নের জন্য সিস্টারদের এবং ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিলো পবিত্র আরাধনা, রোজারিমালা প্রার্থনা, ক্রুশের অর্চনা পাপস্বীকার, জীবন্ত ক্রুশের পথ, পরিবার পরিদর্শন, অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অভিভাবকদের জীবন সহভাগিতা, খেলাধুলা, পা ধোয়া অনুষ্ঠান, আলোর শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। - লিনা বিশ্বাস