মট্স প্রাঙ্গণে উদযাপিত হলো কারিতাস দিবস ও লং সার্ভিস এওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, কারিতাস ঢাকা অঞ্চলের আয়োজনে মট্স এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো কারিতাস দিবস উদযাপন ও লং সার্ভিস এওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান।
মিরপুর এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং স্কুল (মট্স), সি.এইচ.এন.এফ.পি, কোর দি জুট ওয়ার্কস এবং মাদার তেরেজা কাথলিক স্কুল সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।
প্রতি বছর ত্যাগ ও সেবা অভিযান চলাকালীন সময়ে কারিতাসের আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে ত্যাগ ও সেবা অভিযান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে মিরপুর কমপ্লেক্স কমিটির যৌথ উদ্যোগে উক্ত অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।
এ বছর ত্যাগ ও সেবা অভিযানের মূলসুর ছিল “প্রার্থনা, শ্রবণ ও উপবাস: আত্মরূপান্তরের পবিত্র আহবান”।
উক্ত অনুষ্ঠানটি ৩ টি পর্বে সাজানো হয়েছিল। প্রথম পর্বে ছিল বিভিন্ন ধর্মের আলোকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ক সহভাগিতা এবং মূলসুরের উপর আলোচনা। প্রথমেই ত্যাগ ও সেবা অভিযান কার্যক্রমে আলোকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মি. জেমস্ গোমেজ, পরিচালক, মটস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ, সহকারী বিশপ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ। তিনি মূলসুরের উপর আলোকপাত করে বলেন, “আমরা প্রত্যেকে যেন অন্যকে নিজের ভাই হিসেবে ভালবাসতে পারি এবং আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারি।”
সনাতন ধর্মের আলোকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ক সহভাগিতা করেন স্বামী সন্ন্যাসী দেবধ্যানানন্দ, মহারাজ, রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা। মানুষের কর্মের মাধ্যমে ত্যাগ ও সেবার অনুশীলন করে জীবনকে উন্নত করার বিষয়ে তিনি সহভাগিতা করেন।
বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ক সহভাগিতা করেন অধ্যাপক ড. জিনোবোধি ভিক্ষু, প্রাচ্য ভাষা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি সকলকে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে ঈশ্বরের সৃষ্ট জীবের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করার কথা বলেন।
ইসলাম ধর্মের আলোকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ক সহভাগিতা করেন ড. মো: রফীকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি মানবতার অনুশীলন ও ত্যাগের বিষয়ে সকলকে অনুপ্রাণিত করেন।
খ্রিস্ট ধর্মের আলোকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ক সহভাগিতা করেন ফাদার পল গমেজ, পরিচালক, বনানী মেজর সেমিনারী। তিনি পবিত্র বাইবেলের আলোকে সহভাগিতা করে বলেন, “আমরা যেন অন্যকে বন্ধুর মতো ভালবাসি এবং নিজ নিজ কর্ম দ্বারা নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারি।”
মট্স পরিচালক মি. জেমস্ গোমেজ ত্যাগ ও সেবা অভিযানের প্রকাশিত শিক্ষা উপকরণ ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সহভাগিতা করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল কারিতাস লং সার্ভিস এওয়ার্ড বিতরণ। এ বিষয়ে সহভাগিতা করেন প্রকৌশলী : মার্টিন রোনাল্ড প্রামানিক, ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক প্রোডাকশন, মটস।
কারিতাসের এই উদ্যোগের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কারণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সেবা দানের জন্য পুরস্কার স্বরূপ এই লং সার্ভিস এওয়ার্ড কর্মীদের স্পৃহাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিভিন্ন মেয়াদে ১০ বছর, ১৫ বছর, ২০ বছর এবং ২৫ বছর সর্বমোট ২৭ জন কর্মী লং সার্ভিস এওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এওয়ার্ড প্রাপ্তির পর অনুভূতি প্রকাশ করেন মি: মো: ইউসুফ আলী, সহকারী প্রশিক্ষক, মি: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এসিস্ট্যান্ট ওয়েল্ডার, মিজ মৃত্তিকা আদিত্য, ম্যানেজার ( ফিন্যান্স এন্ড এডমিন), মি: সুপ্রিয় হালদার, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা) এবং মি: গৌতম কুমার, ম্যানেজার, সিএমএফপি।
অন্যদিকে ত্যাগ ও সেবা বিষয়ে বিশেষ সহভাগিতা করে মিজ রীতা রোজলীন কস্তা, পরিচালক, কোর দি জুট ওয়ার্কস।
পরিশেষে খ্রিস্টধর্মাবলম্বী সকলের জন্য রবিবাসরীয় খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ সুব্রত বি. গমেজ, সহকারী বিশপ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ এবং ফাদার পল গমেজ, পরিচালক, বনানী মেজর সেমিনারী। খ্রিস্টযাগে মট্স এর আবাসিক শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। - মট্স