মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের গৌরনদী ক্যাথলিক ধর্মপল্লীতে পরিদর্শন ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বরিশাল ক্যাথলিক ডাইওসিসের অন্তর্গত গৌরনদী ক্যাথলিক ধর্মপল্লীতে পরিদর্শন করেন।
তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সহাবস্থানের এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মো. জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম, গৌরনদী ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার লিটন গোমেজ, বরিশাল ক্যাথলিক ডাইওসিসের প্রজেক্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন সেক্রেটারি ফাদার মাইকেল মিলন দেউরী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি আন্তধর্মীয় সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। সংলাপে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান এবং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।”
তাঁরা আরো বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও শান্তির চেতনা জাগ্রত করে। তাই ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংলাপ সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আরও জোরদার করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সমাজে শান্তি, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের পরিবেশ বজায় রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের গৌরনদী ক্যাথলিক ধর্মপল্লী পরিদর্শন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই আন্তঃধর্মীয় সংলাপ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ধরনের সংলাপ ও পারস্পরিক মতবিনিময় বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও সহাবস্থানের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। - লিটন আরিন্দা, বরিশাল
