চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের ধর্মপল্লীগুলোতে প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব আদিবাসী দিবস
গত ৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের ধর্মপল্লীগুলোতে প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব আদিবাসী দিবস।
পবিত্র খ্রিস্টযাগ, প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বান্দরবান, বলীপাড়া ও খাগড়াছড়ি ধর্মপল্লীতে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালন করা হয়েছে।
এ বছর বিশ্ব আদিবাসী দিবসের মূলসুর ছিল “আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান জানাই: জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষায় তাঁদের অবদান।” দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের খ্রিস্টভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
এই দিবস পালন করার মধ্য দিয়ে আদিবাসী জনগণের শান্তি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার ও সার্বিক মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করেন এবং তাঁদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় উদযাপন করেন।
বান্দরবান ধর্মপল্লীতে আদিবাসী জনগণের মঙ্গল কামনায় বিশেষ পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করা হয়। এতে পৌরোহিত্য করেন ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার সুধীর দাস, সিএসসি। পরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে পবিত্র খ্রিস্টযাগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
র্যালিতে আদিবাসী জনগণের অধিকার, মর্যাদা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। এ উপলক্ষে “আমি আদিবাসী, আমি গর্বিত” শিরোনামে একটি দেয়ালিকা উন্মোচন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার শীতল রোজারিও, সিএসসি এবং সহকারী পাল-পুরোহিত ফাদার সুশীল সরেন, সিএসসি।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি ধর্মপল্লীতে পাল-পুরোহিত ফাদার লিওনার্ড রিবেরু পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন। পরে আদিবাসী জনগণের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক মি. চয়ন হুবার্ট রিবেরু।
বিভিন্ন ধর্মপল্লীর এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে আদিবাসী জনগণের পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অধিকার ও মর্যাদার প্রতি মণ্ডলীর সম্মান ও সংহতি প্রকাশ পেয়েছে।
একইসঙ্গে প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সচেতনতার মাধ্যমে আদিবাসী জনগণের জীবন ও কল্যাণ সুরক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। - আরভিএ সংবাদ
