আফ্রিকার কিগালিতে বিশ্ব ক্যাথলিক যোগাযোগ সংস্থার (SIGNIS) কংগ্রেস আয়োজিত
প্রথমবারের মতো SIGNIS - বিশ্ব ক্যাথলিক যোগাযোগ সংস্থা - তাদের কংগ্রেস আয়োজন করছে আফ্রিকার কিগালিতে। আর সেই আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রুয়ান্ডা, "হাজার পাহাড়ের দেশ"।
কেন রুয়ান্ডা? এই স্থানটিকে বেছে নেওয়ার পিছনে আছে একটি ইতিহাস।
৩২ বছর আগে ১৯৯৪ সালের গণহত্যার সময় রেডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে সর্বত্র ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই একই দেশ আজ সত্য বলা, স্মৃতিচারণ এবং পুনর্মিলনের মাধ্যমে রুয়ান্ডা নিজেকে নতুন করে গড়েছে। এই পুনর্গঠনে খ্রীষ্টমণ্ডলীর অনেক ভূমিকা রয়েছে।
SIGNIS আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ফা. ওয়াল্টার চিকওয়েন্ডু ইহেজিরিকা বলেন, কিগালিকে বেছে নেওয়া হল ক্যাথলিক যোগাযোগকর্মীদের জন্য তা একটি বিশেষ মুহূর্ত ও বার্তা। বিবেকহীন যোগাযোগ একটি জাতিকে ধ্বংস করতে পারে। আর বিবেকসম্পন্ন যোগাযোগ একটি জাতিকে সুস্থ করতে পারে।
৩ থেকে ৮ আগস্ট কিগালির Sainte Famille Hotel-এ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে শত শত সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সম্প্রচারক, শিক্ষাবিদ এবং ধর্মীয় ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছিলেন। একটি সহজ প্রশ্ন নিয়ে: "এমন এক যুগে যখন মেশিনগুলোই আমাদের হয়ে কথা বলছে, তখন মানবিকভাবে যোগাযোগ করা বলতে কী বোঝায়?"
কংগ্রেসের এই অধিবেশনে ৩টি মূল বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
১) AI-কে মিডিয়ায় ব্যবহার করব কীভাবে, যাতে মানুষের মুখ ও হৃদয় হারিয়ে না যায়?
২) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অ্যালগরিদম ও সোশ্যাল মিডিয়া কি বিভাজনের হাতিয়ার হবে, নাকি পুনর্মিলনের হাতিয়ার?
৩) ২০০১ সালে OCIC ও Unda-র একত্রীকরণে গঠিত SIGNIS-এর এটি আফ্রিকার মাটিতে প্রথম কংগ্রেস। এটি বিশ্ব ক্যাথলিক মিডিয়ায় আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান কণ্ঠস্বরের স্বীকৃতি।
মঙ্গলবার কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কার্ডিনাল আন্তোয়ান কাম্বান্দা, কিগালির আর্চবিশপ।
অধিবেশন শেষে সকলের জন্য বিশেষ বার্তা যে রুয়ান্ডার গল্প প্রমাণ করে মিডিয়ার ক্ষমতা আছে - ধ্বংসের জন্যও, আবার নিরাময়ের জন্যও। প্রযুক্তি নিজে নিরপেক্ষ। প্রশ্ন হল, কে এটিকে পরিচালনা করছে? AI-এর যুগে খ্রীষ্টমণ্ডলী আমাদের নিয়ে যাচ্ছে মূল বিষয়ে - শোনা, সত্য বলা এবং মানুষের কাছাকাছি থাকা।
এই কংগ্রেসে আলোচ্চ বিষয় ছিল শুধু যন্ত্রপাতি নিয়ে নয় বরং মানুষের আত্মা নিয়ে। সূত্র সিগনিস ওয়েভ। অনুলিখন – চন্দনা রোজারিও।
