বাংলাদেশে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস
গত ৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকারসহ অন্যান্য আধিকার আদায়ের দাবিতে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।
এবারের জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূলসুর হলো, “আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন”। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের আদিবাসীরাও দেশের বিভিন্ন স্থানে পালন করেছে।
এই দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের আদিবাসীরা যথাযজ্ঞ মর্যাদা ও দাবি আদায়ের লক্ষে পালন করেছে দিবসটি।
দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকার প্রেসিডেন্ট মাইকেল জন গমেজ ও সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দেশের সকল আদিবাসী ভাই-বোনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। গারো, মামরা, চাকমা, সান্তাল, ত্রিপুরা, হাজং, মুন্ডা, চাক, বম, লুসাই, রাখাইনসহ অন্যান্য আদিবাসীরা এই দিবসে অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশ সরকার যদিও সাংবিধানিকভাবে এখনো আদিবাসীদের স্বীকার করেনি তবে, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ৫০টি জাতিগোষ্ঠি রয়েছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, এই তালিকাভুক্ত ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ লখের বেশি যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। যদিও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ মনে করেন এই সংখ্যা আরো বেশি হবে।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান থেকে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সরকার এবং রাষ্ট্রের অনিচ্ছার কারণে এখনো আদিবাসীরা তাদের সাংবিধাকি স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
আদিবাসী নেতা উষাতন তালুকদার বলেন, “বাংলাদেশের সরকার প্রায়শই প্রচার করে থাকে বাংলাদেশে আদিবাসী নাই। কিন্তু এটা তো বাস্তব সত্য বাংলাদেশে আদিবাসী আছে এবং আমরা আদিবাসী।”
তিনি সরকার ও রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “বাংলাদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে আপত্তি কোথায়?”
“আমি আশা রাখবো আগামী বছর বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন করবে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী কাগজবিহীন, দলিলবিহীন আদিবাসীদের জমি আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ ও সুরক্ষা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব,” বলেন তালুকদার।
একইভাবে আদিবাসীর অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন আদিবাসী অধিকারকর্মী থিওফিল নকরেক। তিনি বলেন, “যেখানে আদিবাসীরা আছে সেখানে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হচ্ছে কিন্তু যেদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালিত হবে, তখন আমরা মনে করবো রাষ্ট্র আদিবাসীদের প্রতি সংবেদনশীল।”
“যখন রাষ্ট্র আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার, ভূমির অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার দিবে তখনি বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বলতে পারবে, আমরা সকল মানুষের জন্য সমান অধিকারে বিশ্বাসী”, বলেন নকরেক।
তিনি আরো বলেন, “আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নেই বলে আজ বাংলাদেশের আদিবাসীরা হীনমন্যতায় ভুগছে। রাষ্ট্র যদি না চায়, তাহলে আদিবাসীরা অধিকার বঞ্চিতই থেকে যাবে।”
১৯৮২ সালের এই দিনে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কার্যনির্বাহী দলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে, ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। - ডিসিনিউজ
