রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো সেবাদানরত সিস্টারদের সেমিনার

খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো সেবাদানরত সিস্টারদের সেমিনার

গত ১৪ থেকে ১৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় যাজকীয় ব্রতধারী/ব্রতধারিনীদের জন্য কমিশনের উদ্যোগে খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ধর্মপ্রদেশে সেবাদানরত সিস্টারদের সেমিনার। 

এই সেমিনারের মূলসুর ছিলব্রতীয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসাবে সেবাকাজ সেমিনারে ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লীতে সেবারত সিস্টারগত প্রায় ৪২ জন অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারের শুরুতেই ছিল পবিত্র আরাধনা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, উদ্বোধনী নৃত্যসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা। উক্ত সেমিনারে কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক ফাদার মাইকেল কোড়াইয়া, ধর্মপ্রদেশের পক্ষে ফাদার উইলিয়াম মূর্মূ এবং সিস্টারদের পক্ষে সিস্টার এডেলিকা।

পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে ফাদার উইলিয়াম মূর্মূ আশা তীর্থযাত্রী হিসাবে সেবাকাজের কয়েকটি দিক তুলে ধরেন বলেন, “স্বার্থপরতার উর্ধ্বে উঠে আমাদের সেবাকাজ করতে হবে, ক্ষমা আদান-প্রদানের সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “সহভাগিতা-সহযোগিতা-সহমর্মিতা রাখতে হবে, লোভের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে, সমালোচনা পরিহার করে সমর্থন করতে হবে পরস্পর পরষ্পরকে গ্রহণীয় মনোভাব রাখতে হবে। আর এইগুলো করতে পারলে আমাদের সংঘবদ্ধ জীবন বা সেবাকাজ আরো প্রানবন্ত আশাপূর্ণ হবে যা নিজেকেসহ ভক্তদের আশার তীর্থযাত্রা চুড়ান্ত লক্ষ্য স্বর্গের পথে আমাদের ধাবিত করবে।

সেমিনারে দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সিস্টারগণ

মূলভাবের উপর সহভাগিতা করেন সিস্টার স্মৃতি রিবেরু, সিআইসি। তার উপস্থাপনায় কয়েকটি দিক উঠে আসে সেই গুলো হলো ব্রতীয় জীবনে বা খ্রীষ্টিয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসাবে সেবাদান হল ঈশ্বরের প্রেম, ক্ষমা এবং শান্তির বার্তা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরো বলেন, “এটি কেবল ভৌগলিক কোনো তীর্থস্থানে যাওয়া নয়, বরং আধ্যাত্মিক যাত্রাপথে নিজেকে এবং অন্যদের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে যুক্ত থাকা। আমরা সবাই আশার তীর্থযাত্রী। আশা একটি ঐশতাত্বিক গুন, যার দ্বারা আমরা আমাদের সুখ হিসাবে ঐশরাজ্য শ্বাশত জীবনের বাসনা করি।

আশা আমাদের ভবিষ্যত জীবনের দিকে ধাবিত করে। আশা নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করে। আশা নিরাময় করে, আশা ভয়কে জয় করতে সাহায্য করে, আশা অন্যকে সাহায্য করতে সহায়তা করে,” বলেন সিস্টার রিবেরু।

তিনি আরো বলেন, “আজকের ব্রতীয় জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো হলো ব্যক্তিগত সাম্প্রদায়িক প্রার্থনার প্রতি বিশ্বস্ততার অভাব যেমন: অজুহাত, অসুস্থ্যতার ভান, প্রতিদিন আধ্যাত্মিক অনুশীলনে অংশগ্রহনের অভাব/অনীহা যেমন : অলসতা, ব্যস্ততা। যেকোন জবাবদিহিতার প্রতি বিতৃষ্ণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আধিপত্য, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার আকাঙ্খা, অর্থের প্রতি প্রবণতা।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, কমিউনিটিতে অন্যান্য সদস্যদের সাথে ব্যক্তিগত ভাগাভাগি কম, কয়েকজনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন, বৈষম্য কলঙ্ক, আত্মকেন্দ্রিকতা, বিচারমূলক মনোভাব, পরচর্চা বা খারাপ কথাবার্তা এবং মাঝারি কর্ম দক্ষতা বা কোন রকম চলার মতো। এইগুলো সমাধানের উপায় সমূহ Adoration, Confession, Thank giving, Supplication.  অন্যদের প্রতি মনযোগ দেওয়া, সাম্প্রদায়িকতা  (গোষ্ঠীবদ্ধতা) দলের সবাইকে নিয়ে চলা।

বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত অংশগ্রহণকারী সিস্টারগণ

উপস্থাপনার আলোকে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে ২টি প্রশ্নের আলোকে দলীয় সহভাগিতা করা হয়। দলীয় আলোচনার পর প্রতিবেদনে যা উঠে আসে তা হলো সিস্টারদের মধ্যে সহভাগিতার-সহযোগিতার অভাব, কনভেন্টে প্রার্থনা-নিয়মের সাথে ধর্মপল্লীর পালকীয় সেবার সময়ের হেরফের হওয়া, পদ্ধতিগত কাঠামোর অভাব, ত্যাগস্বীকারের মনোভাবের অভাব, কর্ম-পরিকল্পনার অভাব, একচেটিয়া মনোভাব, পরিবারে পিতা-মাতাদের সহযোগিতার অভাব, আন্তরিকতার অভাব, গ্রহণীয় মনোভাবের অভাব। এছাড়াও মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারের অভাব, সৃজনশীলতার অভাব, উপকরণের অভাব বদ্ধ মূল ধারণা পোষণ করা।  

তবে এইগুলো উত্তরণের উপায়সমূহ হিসেবে তুলে ধরা হয় যে, পায়ের জুতা খুলে মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সেবার জীবনে, সহযোগিতা-সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করা, আন্তরিকতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, সংলাপের মধ্য দিয়ে কাজ করা, একে-অন্যকে সমর্থন করা, পালকীয় কাজে সৃজনশীল হওয়া, ধর্য্যশীল হওয়া, পরষ্পরের কাজে সহযোগিতা-সমর্থণ করা, বিচক্ষণ হওয়া পালকীয় কাজে এবং প্রার্থনায় বিশ্বস্থ হওয়া।

এই সেমিনারের শেষ দিনে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি তার উপদেশ বাণীতে সহভাগিতায় কয়েকটি দিক তুলে ধরে বলেন, “ব্রতীয় জীবনে আশার তীর্থযাত্রী হিসাবে যীশুর ইচ্ছাটাই প্রাধান্য দেওয়া আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে, নিজেদের ইচ্ছাকে অধিক গুরুত্ব না দিয়ে মা মারীয়া মত প্রতিদিনকার জীবনে ঈশ্বরের কাজের জন্য সকল অলসতা-স্বার্থপরতার উর্ধ্বে উঠতে হবে এবং অন্যের জীবনে আনন্দ বয়ে আনার জন্য সবসময় ত্যাগী মনোভাব রাখতে হবে - ফাদার স্বপন মার্টিন পিউরীফিকেশন