বারাসাতের প্রজ্ঞালয় ভবনে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলের পরিবার কমিশনের প্রশিক্ষণ শিবির
গত ১০- ১২ জুলাই ২০২৬, এই তিন দিন ব্যাপী পশ্চিম বঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলের পরিবার কমিশনের আয়োজিত ডায়েসেসিয়ান শিক্ষকদের শিক্ষণ ও কর্মশালা হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসাতের প্রজ্ঞালয় ভবনে।
প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল - ‘ভালোবাসার সাথে পরিবারের সঙ্গে’। কলকাতা আর্চ ডায়েসিসের মোট আটটি ডায়েসিস থেকে সব মিলিয়ে পঁচাত্তর জন নারী পুরুষ এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। অধিকাংশ ছিলেন বিবাহিত পুরুষ ও মহিলা। পোপ মহোদয়ের বিশ্বজনীন পত্র – ‘আমোরিস লায়েতিতা’র দশম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই ডায়েসেসিয়ান শিক্ষকদের শিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন হয়। এই অনুষ্ঠান হয় পুরোপুরি পরিবার এবং মণ্ডলী পরিবার কেন্দ্রিক।
এই পর্যালোচনা মূলক অনুষ্ঠানে সবার মধ্যে থেকে দেখার বিষয় ছিল যে বিশ্বজনীন পত্র – ‘আমোরিস লায়েতিতা’ অনুযায়ী কতটা কাজ হয়েছে প্রত্যেকটি ডায়েসিসে এবং আর কতটা কাজ করা বাকি আছে।
প্রতি দিন চার থেকে পাঁচটি অধিবেশন পর্ব হয় যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করেন ।
মূল আয়োজক ছিলেন ফাদার পেপ্পিন, কলকাতা আর্চ ডায়েসিস। বিশিষ্ট অথিতি ছিলেন ফাদার প্রদীপ মন্ডল; ভিকার জেনারেল, কৃষ্ণনগর ডায়েসিস। মূল পরামর্শদাতা হিসেবে ছিলেন ফাদার আরুল রাজ। এ ছাড়াও এক কর্মশালা পরিচালনা করেন হলদিয়া থেকে সিস্টার মেরিলিন, দার্জিলিং থেকে ফাদার লাবান এবং মিস্টার কেভিন কাস্তেলিনো ও মিস্টার রবার্ট ডি গামা।
ফাদার প্রদীপ মন্ডল তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সমাজ এবং প্রতিটা পরিবার কিছু না কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়েই দিন যাপন করে চলেছেন। আর এখানেই প্রয়োজন হয়ে পড়ছে পরিবারের মধ্যে একতা, শান্তি এবং জীবনের প্রতি খ্রীষ্টের দেখানো পথ ও বাণী মেনে চলা।"
ফাদার পেপ্পিন বলেন, “আমাদের একে অপরের ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করতে হবে, ধন্যবাদ দিতে হবে এবং ধৈর্য রাখতে হবে।"
ফাদার আরুল রাজ বলেন, “এই কর্মশালা থেকে ফিরে গিয়ে যা শিখলাম তা নিজেদের পরিবার এবং মণ্ডলীর মধ্যে সহভাগিতা করতে হবে কারণ জানতে হবে সবাই ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকবো।“
সিস্টার মেরিলিন বলেন, “আমরা যদি আমদের অংশটুকু সঠিক ভাবে করি তাহলে ঈশ্বর আমাদের ঈশ্বর আমাদের পরিবারকে আশীর্বাদ করবেন।"
কর্মশালাতে শিক্ষার পাশাপাশি ছিল পরিবারের ওপর কুইজ এবং প্যানেল ডিস্কাশন বা আলোচনা।
সব শেষে প্রতিটা ডায়েসিসকে নির্ধারণ করতে বলা হয় আগামীতে তাদের নিজস্ব কর্ম পরিকল্পনা। প্রতিবেদন – অতনু দাস।
