এফএবিসি‘র প্লেনারি সম্নেলনে জাকার্তার ‘টানেল অব ফ্রেন্ডশিপ’ পরিদর্শন করবেন এশিয়ার বিশপরা
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস' কনফারেন্সের (এফএবিসি) দ্বাদশ প্লেনারি সম্নেলনে অংশগ্রহণকারী এশিয়ার বিশপরা আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সমাপনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাকার্তার ‘টানেল অব ফ্রেন্ডশিপ’ এবং ইস্তিকলাল মসজিদ পরিদর্শন করবেন। এই সফরকে ইন্দোনেশিয়ার আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, বিশপরা প্রথমে জাকার্তা ক্যাথেড্রালে পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎস্বর্গ করবেন। এরপর তারা ‘টানেল অব ফ্রেন্ডশিপ’ অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ ইস্তিকলালে পৌঁছাবেন।
ইস্তিকলাল মসজিদ ও জাকার্তা ক্যাথেড্রালকে সংযুক্তকারী এই ভূগর্ভস্থ পথটি শুধু যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্মিত নয় , বরং এটি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর উদ্যোগে এর নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। একই বছর পোপ ফ্রান্সিস ইন্দোনেশিয়া সফরের সময়ও এই স্থান পরিদর্শন করেন।
ইন্দোনেশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও ইস্তিকলাল মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম নাসারুদ্দিন উমর বলেন, ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যেও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, “পার্থক্য কোনো বাধা নয়; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার শক্তি।”
ইন্দোনেশিয়ার বিশপ সম্মেলনের সভাপতি বিশপ আন্তোনিউস সুবিয়ান্তো বুনিয়ামিন জানান, সমাপনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশপদের ‘টানেল অব ফ্রেন্ডশিপ’ ও ইস্তিকলাল মসজিদ পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাকার্তার কার্ডিনাল ইগনাতিয়ুস সুহার্যো বলেন, এই সফর এফএবিসির দ্বাদশ প্লেনারি সভার প্রতিপাদ্য “তোমরা আরও মহৎ বিষয় দেখতে পাবে” (যোহন ১:৫০): সিনোডাল রূপান্তর ও এশিয়ায় সেতু এবং সেতুবন্ধন নির্মাতার মিশন এর বাস্তব প্রতিফলন।– আরভিএ সংবাদ।
