লূর্দের রাণী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ব মা দিবস
গত ১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বনপাড়া লূর্দের রাণী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ব মা দিবস।
এই দিবসের মূলসুর ছিল “ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মাতৃত্বের সেবা ও যত্ন”। এতে ধর্মপল্লীর বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ১৬০জন মায়েরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা। তিনি তাঁর উপদেশ বাণীতে বলেন, “প্রথমেই আমি এই বিশেষ দিনে মায়েদের শুভেচ্ছা জানাই। তবে আমরা শুধু আজকের দিনেই মায়েদের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মায়েদের অবদানকে যেন সীমিত করে না ফেলি সেই কথা আমাদের মনে রাখতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “মায়ের মধ্য দিয়ে জগতে আগমন, মা সকল দেশে সকল জাতিতে পূজনীয়। একটি শিশুর আগমের মধ্যে দিয়ে একজন নারী জগতের মা হয়ে উঠেন।”
এই দিনে মায়েদের অংশগ্রহণে ছিলো আনন্দ শোভাযাত্রা। এরপর মিশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা, পালকীয় পরিষদের সহ-সভাপতি, সেক্রেটারি, বনপাড়া ক্রেডিটের চেয়ারম্যানসহ একশত ষাট জন মা।
অংশগ্রহণকারী একজন মা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “একজন মা পরিবারকে আগলে রাখে। তবে মায়েদের যথাযথ সম্মান আমরা অনেক সময় দিতে অক্ষম। একজন মাকে সন্মান জানানো মানে একজন নারীর অধিকার সমুন্নত রাখা। আমি ধন্যবাদ জানাই এই সুন্দর অনুষ্ঠানের জন্য।”
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, আন্না জার্ভিসের চেষ্টায় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালন শুরু হয় এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এই দিবসে স্থানীয়ভাবে ছুটিও ঘোষণা করা হয়।
ঠিক পরের বছর ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে আমেরিকার প্রায় সব রাজ্যে, শহরে এবং চার্চে মা দিবস বাৎসরিক ছুটি হিসেবে পালন শুরু হয়।
পরবর্তীতে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন তার এক ঘোষণায় প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার সরকারি ছুটি হিসেবে মা দিবস পালনের বিলে সাক্ষরদান করেন। এই ভাবেই বিশ্ব মা দিবস প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে।
এই দিনটিকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছিল মূলসুরের উপর আলোচনা, মায়েদের অংশগ্রহণে নৃত্য, গান, কবিতা ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। - ফাদার আলবার্ট বকুল ক্রুজ