ঠাকুরপুকুর সেক্রেড হার্ট গির্জায় তপস্যাকালের ক্রুশের পথে মা ও ছেলের সাক্ষাৎ শোভাযাত্রা

গত ৮ই মার্চ তপস্যাকালের তৃতীয় রবিবার উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঠাকুরপুকুরে অবস্থিত সেক্রেড হার্ট গির্জায় এক প্রার্থনাময় পরিবেশে ক্রুশের পথে যীশুখ্রীষ্ট ও মা মারীয়ার সাক্ষাৎকার এর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় সেন্ট ভিনসিন্ট স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয় এবং যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশ বহনের মূর্তি নিয়ে গির্জা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

শোভাযাত্রার চতুর্থ তীর্থে মা মারীয়া তাঁর একমাত্র প্রিয় পুত্র যীশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই মুহূর্তে সমগ্র গির্জা প্রাঙ্গণ তপস্যাকালের প্রার্থনা ও গানে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত ভক্তরা গভীর ভক্তি ও ধ্যানের মাধ্যমে এই পবিত্র মুহূর্তকে অনুভব করেন।

শোভাযাত্রা শেষে পবিত্র খ্রীষ্টযাগ উদযাপন করা হয়।এই পবিত্র মিসা উৎসর্গ করেন বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার কনৌজ রয়। তাঁর সঙ্গে সহযাজক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গির্জার পালক পুরোহিত ফাদার তুষার অগাস্টিন গোমেজ এবং ফাদার অমৃত এক্কা।

ফাদার কনৌজ রয় বলেন "দ্বাদশ বা একাদশ তীর্থে যখন আমরা বলি— “প্রভুকে যন্ত্রণা দেওয়ার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়”, তখন এই কথাটি বলার আগে আমার ভয় হয়, এবং সকলেরই এই ভয় অনুভব করা উচিত। কারণ যদি ঈশ্বর মানুষের প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসা ভুলে যান এবং এই কথার উপর ভিত্তি করে আমাদেরকে অভিশাপ দিতে শুরু করেন, তাহলে হয়তো আমরা কেউই বেঁচে থাকতাম না।কিন্তু ক্রুশের পথের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি ঈশ্বরের ভালোবাসা কত গভীর। প্রতিটি তীর্থ আমাদের সামনে তুলে ধরে—প্রভু আমাদেরকে কতটা ভালোবাসেন এবং আমাদের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন"।

দিনটি ছিল ভক্তি, প্রার্থনা ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। মা মারীয়া যীশুর প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন যেমন দেখা যায়, তেমনি ভক্তদের হৃদয়েও যীশু ও মা মারীয়ার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়। প্রার্থনা, তপস্যাকালের গান এবং আধ্যাত্মিক ভাবনায় ভরা এই দিনটি সকলের মনে নতুন করে যীশুর উপস্থিতি অনুভব করায়।

প্রতিবেদন : শুভম মিত্র

চিত্রধারণ: রোহান গোমেস