রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীর প্রতিপালক পবিত্র যীশু হৃদয়ের পর্বদিবস উদযাপন
গত ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও ভক্তিমূলক পরিবেশে উদযাপিত হলো ধর্মপল্লীর প্রতিপালক পবিত্র যীশু হৃদয়ের পর্বদিবস।
নয়দিনের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পর ধর্মপল্লীর প্রতিপালকের পর্ব দিবস উদযাপন করা হয়। খ্রিস্টভক্তগণ নয়দিনের নভেনা খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ফাদারগণ নভেনা খ্রিস্টযাগে বিভিন্ন মূলভাবের ওপর খ্রিস্টযাগ অর্পণ ও উপদেশবাণী রাখেন।
এই পর্বদিবস উপলক্ষে খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ। তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটিয়া ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার আলবিন গমেজ। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত ফাদারগণ, সিস্টারগণ এবং অনেক খ্রিষ্টভক্তগণ অংশগ্রহণ করেন।
পর্বীয় খ্রিষ্টযাগের উপদেশবাণীতে বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ পবিত্র যীশু হৃদয়ের প্রেম, করুণা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “যীশুর হৃদয় মানবজাতির প্রতি ঈশ্বরের অসীম ভালোবাসার প্রতীক। তিনি আমাদেরকে ভালবাসেন বলেই তার হৃদয় বের করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। এই ভালোবাসা ও সেবার আদর্শ প্রত্যেক বিশ্বাসীর জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।”
“আমরা সকলেই পাপ করি আর যখন পাপ করে অন্য পথে চলে যায়, যীশুর দেখানো পথে চলি না, তখন আমরা তার হৃদয়ে ক্ষতস্থানে আঘাত করি, আর তার চিহ্ন স্বরূপ আমরা দেখতে পারি যীশুর হৃদয়ের উপর কাটার মুকুট,” বলেন বিশপ গমেজ।
তিনি আরো বলেন, “বর্তমান বিশ্বের নানা সংকট ও বিভেদের সময়ে যীশু হৃদয়ের বার্তা আমাদের শান্তি, ক্ষমা ও ভ্রাতৃত্বের পথে আহ্বান জানায়। তাই খ্রিষ্টভক্তদের উচিত যীশুর প্রেমকে নিজেদের জীবন ও সমাজে বাস্তবায়ন করা।”
“যীশু আমাদের প্রত্যেকে আহ্বান করে বলছেন তোমরা আমার কাছে আস, পাপ থেকে মুক্ত হও, নিজের জীবনকে তোমরা পরিশুদ্ধ হকর। জীবনকে নতুন করে সাজাও,” বলেন বিশপ।
পবিত্র খ্রীষ্টযাগ শেষে ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার আলবিন গমেজ সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রার্থনা কার্ড ও বিস্কুট বিতরণের মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে এই পর্বদিবসের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। - প্রাঞ্জল টমাস রোজারিও