ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শান্তির জন্য ছয় ঘন্টাব্যাপী রোজারি মালা প্রার্থনা
গত ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত লক্ষ্মীবাজার পবিত্র ক্রুশের র্গীজায় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় ঘন্টাব্যাপী বিশেষ রোজারি মালা প্রার্থনা।
উক্ত এই প্রার্থনা পরিচালনা করেন সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সেক্রেটারি এবং খ্রিষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। পবিত্র এই প্রার্থনায় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীবাজারস্ত মারীয়ার সেনা সংঘের সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য খিস্টভক্তগণ, ফাদার, সিস্টার এবং হোস্টেলের মেয়েরা।
এই প্রার্থনাটি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী ও সেমিনারীতে একযোগে ছয় ঘন্টাব্যাপী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে উৎসর্গ করা হয়েছে।
রোজারি মালা প্রার্থনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ক্রুশ র্গীজার পাল পুরোহিত ফাদার উজ্জ্বল লিনুস রোজারিও, সিএসসি মা -মারীয়ার কাছে খ্রিস্টভক্তদের সকল উদ্দেশ্য প্রার্থনা অপর্ণ করতে বলেন, যেন বিশ্বের যুদ্ধ বিবাদের অবসান ঘটে এবং মা – মারীয়া যেন আমাদের প্রত্যেককে নিরাপদে রাখেন।
পরর্বতীতে প্রার্থনা পূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। তিনি বলেন, “ ছয় ঘন্টা রোজারি মালা প্রার্থনা শান্তিতে থাকা সকল মানুষের কাছেই কাঙ্খিত একটি অবস্থা। তাইতো আমরা আমাদের আটপৌঢ়ে জীবনে আশীর্বাদ দানে বা শুভ কামনায় বলে থাকি শান্তিতে থাকো, সুখে থাকো। যিশু নিজেও আমাদেরকে বলেছেন, তোমাদের শান্তি হোক। শান্তির মাঝে তাঁর অবস্থান।”
“তাইতো সুরে সুরে গানে গানে ব্যক্ত করি ‘শান্তি যেখানে সেখানে আমিতো আছি, আমারি শান্তি তোমাদের দিয়ে গেছি। যিশুর দেওয়া সেই শান্তি জগতের সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং শান্তিময় সমাজ গড়ে ওঠুক -তা আমাদের প্রত্যাশা,” বলেন ফাদার রিবেরু।
বর্তমান সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল মূল্যবোধ ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতাও মানব জীবনে অশান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্র তৈরি করে বলে অনেকে মনে করছে। যুদ্ধরত বিভিন্ন দেশগুলো, অশান্তিতে থাকা পরিবার ও ব্যক্তিগুলো শান্তি চায় বলে বহুমুখী শান্তি প্রচেষ্টা নেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠনিক উভয়ভাবেই।
তাই পরিবারে সন্তানদের শিশুকাল থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষাদানের সাথে সাথে শান্তি বজায় রাখতে ও প্রতিষ্ঠা করতে যে ত্যাগস্বীকার ও উদ্যোগ দরকার তা-ও যেন শিক্ষা দেওয়া হয়।
তবে একই সাথে শান্তির জন্য আমাদের সকলকেই প্রার্থনা করতে হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনেককে জড়িত করার ইচ্ছা রাখতে হয়। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ প্রক্রিয়া অর্থাৎ একত্রিত হয়ে প্রার্থনা (রোজারি মালা) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও শান্তির কথা তুলে ধরা ও শান্তি প্রচেষ্টায় একসাথে চলতে পারি।
পোপ ফ্রান্সিস কয়েক বছর আগে শান্তি দিবসে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শান্তি” এবং যোগাযোগ দিবসে পূর্ণ মানবীয় যোগাযোগের জন্য: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হৃদয়ের প্রজ্ঞা’ কে প্রাধান্য দিয়ে আমাদেরকে আহ্বান করেছেন যেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যথার্থভাবে ব্যবহার করি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথম ধাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার মধ্যদিয়ে আমরা সকলেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে পারি একসাথে প্রার্থনা করে ও শান্তির পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান জানান দিয়ে।
মে মাসের শেষদিনে মা মারীয়ার সাক্ষাৎকার পর্বদিবস পালন করা হয়। কিন্তু এ বছর তা রবিবারদিন থাকাতে তা পালন করা হচ্ছে না। তাই আজকে অর্থাৎ ৩০ মে, ছয় ঘন্টাব্যাপী আমরা ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আহ্বানে একসাথে অনবরত রোজারিমালা প্রার্থনা করবো যাতে করে জগতে, আমাদের দেশে ও পরিবারগুলো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। শান্তির রাণী মা মারীয়া আমাদের সহায় থাকুন। - আরভিএ সংবাদ