নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি)তে অনুষ্ঠিত হলো মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড
গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি) এর নিজস্ব ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড।
বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ অণুজীববিজ্ঞানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি)-এ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড।
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ অ্যাফিলিয়েটেড মাইক্রোবায়োলজিস্টস (আইএসবিএম) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ।
দিনের কর্মসূচিতে ছিলো দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিচারক এবং গবেষকসহ প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণ করেন। অলিম্পিয়াডে ৪২টি কলেজ ও ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়, যা এই আয়োজনকে একটি জাতীয় পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক মিলনমেলায় রূপ দেয়।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল কবির-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। পরে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও আইএসবিএম এর কার্যক্রম ও অবদান তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিডিডিআর,বি’র সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও ওয়ান হেলথ ল্যাবরেটরি প্রোগ্রাম ফর রেসপিরেটরি ইনফেকশনস-এর প্রধান ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং আইএসবিএম-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি বলেন, “মাইক্রোবায়োলজি তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও এটি একটি অত্যন্ত গতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শাখা। কোভিড-১৯ মহামারির সময় মানুষ প্রকৃত অর্থেই এর শক্তি ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে মাইক্রোবায়োলজি একটি ফ্রন্টিয়ার সাবজেক্টে পরিণত হয়েছে, যেখানে রয়েছে নিত্য-নতুন আবিষ্কারের বিশাল সম্ভাবনা। এই বিষয়টি প্রকৃতিকে বোঝা ও সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার সম্ভাবনা।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, মাইক্রোবায়োলজি অধ্যয়ন করেই তিনি একজন বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লক্ষ্য নির্ধারণ, দক্ষতা অর্জন এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির পর মাইক্রোবায়োলজির গুরুত্ব নতুন করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে দক্ষ মাইক্রোবায়োলজিস্ট গড়ে তোলা অপরিহার্য।”
মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল কবির বলেন, “দেশের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ ও দেশের বাইরে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বায়োটেকনোলজিসহ নানা ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজির ব্যাপক কর্মক্ষেত্র রয়েছে।”
বক্তব্যপর্ব শেষে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও ‘থ্রি মিনিট থিসিস (৩এমটি)’ শৈলীর উপস্থাপনায় অংশ নেয়, যেখানে তারা নিজেদের বৈজ্ঞানিক ধারণা বিচারকদের সামনে তুলে ধরে।
বিকেলে অংশগ্রহণকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও মাইক্রোবায়োলজির আধুনিক ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। পরে এনডিইউবির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরিশেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজারিও, সিএসসি এবং আইএসবিএম-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নওয়াবুর রহমান। - এনডিইউবি