রাজশাহী খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের বার্ষিক নির্জনধ্যান
গত ১৩ থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুটি দলে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের খ্রিস্টজ্যোতি পালকীয় সেবাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের বার্ষিক নির্জনধ্যান।
বার্ষিক এই নির্জনধ্যানের মুলসূর ছিল, “উত্তম মেষপালক যাজক: ঐশাত্মার বিনম্র শ্রবণ-কষ্টভোগী জনগণের জন্য উন্মুক্ত হৃদয়-মন”। এতে দুটি দলে ১জন বিশপ ও ২০৪ জন ধর্মপ্রদেশীয় যাজক অংশগ্রহণ করেন। এবারের নির্জনধ্যান পরিচালনা করেন ফাদার বাবলু সরকার।
প্রথম দলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশপ জের্ভাস রোজারিও রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “পাস্টোরাল সেন্টার নির্জনধ্যানের জন্য আপনাদের সুন্দর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ দান করবে বলে বিশ্বাস করি। নিজেকে যাচাই এবং বিশ্রামের জন্য নির্জনধ্যান আমাদের জন্য একটি সুন্দর সুযোগ।”
তিনি আরো বলেন, “যিশুর মতো আমাদেরও উত্তম মেষপালক হতে হবে। যিশু যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছেন আমরাও যেন তদ্বরূপ জনগণের নিকটে যাই।”
দ্বিতীয় দলের উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজক ভ্রাতৃসংঘের প্রেসিডেন্ট ফাদার মিন্টু পালমা বলেন, “এই নির্জনধ্যানের মধ্য দিয়ে পুণ্য অর্জনের চেষ্টা করবো। সারাবছর আমরা জনগণের জন্য সময় দিয়েছি। আমাদের নিজেদের যত্নের জন্য নির্জনধ্যানের এই চারটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেন এই চারটি দিন ঈশ্বরের সান্নিধ্যে নিজের জন্য সময় কাটাতে চেষ্টা করি।”
ফাদার বাবলু সরকার নির্জনধ্যান পরিচালনায় বলেন, “যিশুকে ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারি না। অন্যের ক্ষত বৃদ্ধি ও সমালোচনা করা যাজকদের কাজ না। ভাই যাজক যেন ভাই যাজকের ক্ষতের কারণ না হই।”
তিনি আরো বলেন, “যিশু যেমন অন্যকে ভালবেসেছেন আমরা যেন একইভাবে সবাইকে ভালবাসি, অন্যের কথা শুনি। আমাদের হৃদয় বড় করতে হবে। সবার কাছে যেতে হবে।”
নির্জনধ্যানের শেষদিনে ফাদার বাবলু সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। ফাদার বাবলু সরকার সমাপনীতে বলেন, “আমরা সবাই পুরোহিত। ভাই পুরোহিতের বিপদে ভাই পুরোহিতগণই যেন এগিয়ে আসি। আর এই ক্ষেত্রে প্রার্থনা আমাদের এক রাখতে পারে।”
নির্জনধ্যানের মূল্যায়নে ফাদার বিজন কুবি বলেন, “ফাদার বাবলু সরকার একজন অভিজ্ঞ নির্জনধ্যান পরিচালক। তিনি অভিজ্ঞতালব্ধ কথাগুলো আলোচনা করেছেন বিধায় নির্জনধ্যান ছিলো আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত।”
তিনি আরো বলেন, “ফাদার সত্যিকার অর্থে আমাদের পরিচালনা করতে পেরেছেন বলে নিজেদের যাজকীয় জীবন সমন্ধে আরো সচেতন হতে পেরেছি। এই নির্জনধ্যান আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক খাদ্যস্বরূপ; আমরা অবশ্যই এই খাদ্যের পুষ্টি উত্তম মেষপালক যিশুর মতো অন্যের কাছে বিলিয়ে দিতে পারবো।”
নির্জনধ্যানের সার্বিক পরিবেশ বিষয়ে ফাদার খোকন ভিনসেন্ট গমেজ বলেন, “রাজশাহী পাস্টোরাল সেন্টার সত্যিকার অর্থেই নির্জনধ্যানের পরিবেশ প্রদান করতে পেরেছে। ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের মধ্যে অনেক সম্পদ রয়েছে; আর বিডিপিএফ এর বর্তমান বোর্ড সেই সম্পদগুলো ব্যবহার করছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের ধর্মপ্রদেশীয় যাজকগণ যে অত্যন্ত সুন্দর ও আধ্যাত্মিকতাপূর্ণভাবে নির্জনধ্যান পরিচালনা করতে পারেন এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ ফাদার বাবলু সরকার। নির্জনধ্যানের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ফাদার বাবলু সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।” - বরেন্দ্রদূত
