পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী’র আন্তঃধর্মীয় সংলাপ কমিশনের শুভেচ্ছা বাণী
শ্রদ্ধেয় ও সুপ্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা,
বিভিন্ন উদ্দেশ্য (ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা, ক্ষমা-পুনর্মিলন) সামনে রেখে সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে পশু বলিদান ইসলাম ধর্মের একটি ফলপ্রসূ ধর্মীয় ক্রিয়া।
এই ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সামনে রেখে পবিত্র কোরানে বর্ণিত বাণী ও শিক্ষা অনুসারে প্রতিবছর মুসলমান ভাই বোনেরা সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে পশু বলিদান করে থাকেন। তাঁদের পবিত্র বিশ্বাস অনুসারে এই বলিদান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে মুমিন লাভ করে ঐশ কৃপা-আশীর্বাদ তথা হাজারো তৌফিক।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমাদের মুসলমান ভাই ও বোনেরা পালন করবেন এই ঈদুল আযহা। জবাই করা পশু হযরত ইব্রাহিমের পশু-বলিদান স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই স্মরণেই মুসলমান ভাইবোনেরা ঈদুল আযহা’র দিনে পশু বলিদান (জবাই) করে থাকেন; আর বলিকৃত মাংস বিধান অনুসরণ ক’রে দরিদ্র মিসকিনদের মাঝে বিতরণ ক’রে থাকেন।
এই বছরেও একই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পুঞ্জিকা অনুসরণে মুসলমান ভাইবোনেরা পালন করতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা যার অপর নাম কোরবানি ঈদ।
এই পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইসলাম ধর্মাবলম্বী সকল ভাইবোনদের জন্য কামনা করি সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের আশীর্বাদ। তাঁদের প্রতি ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক !!
সকল ধর্মের জন্য যে শিক্ষা বাণী এই ঈদকে ঘিরে, তা হলো, আমরা কল্যাণের উদ্দেশে ত্যাগের মহিমায় উদ্দীপিত হয়ে যে কোন কল্যাণ কাজ সম্পাদন করতে পারি। তুলনা নয়, তবে প্রসঙ্গ টেনে বলতে পারি, সকল মানুষের কল্যাণ তথা পরিত্রাণের জন্যে আমাদের প্রভু যিশু ক্রুশে নিজেকে বলিদান করেছেন; কুরবান করেছেন।
এই ঈদে সার্বজনীন শিক্ষা বাণীই হলো, অপরের কল্যাণের জন্য ত্যাগ-সেবা। সাধ্বী মাদার তেরেজা হলেন ত্যাগপূর্ণ সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। “ত্যাগেই আনন্দ” এই সুরটি মন-অন্তরে রেখে আসুন আমরা সবাই প্রতিদিন কোন না কোন কল্যাণ কাজ সাধন করি; আর তা করার জন্য যে কোন ত্যাগ-তিতিক্ষা বরণ করে নেই।
আসুন, এই ঈদুল আযহা’র আমেজে আমরা সবাই কল্যাণের জন্য প্রতিদিন ত্যাগের মহিমায় উদ্দীপিত হই এবং কোন না কোন সেবাকাজে নিজেকে ব্যাপৃত রেখে সৃষ্টিকর্তার আশীষ লাভে ধন্য হই।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকল মুসলমান ভাইবোনকে জানাই ঈদের প্রীতিপূর্ণ শুভেচ্ছা ও কামনা করি ঈশ্বরের কৃপা-আশীর্বাদ, হাজারো তৌফিক। ঈদ মোবারক ! ঈদ মোবারক ! - খ্রীষ্টিয় ঐক্য ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বিষয়ক কমিশনের সভাপতি, আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি এবং নির্বাহী সচিব ফাদার প্যাট্রিক গমেজ।