লাহোরের প্রাক্তন এক সেমিনারীয়ান র্দীঘ ২০ বছর বাইরের জীবনের অভিজ্ঞতার পর যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন
গত ১১ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পাকিস্থানের লাহোর ধর্মপ্রদেশ সেক্রেড হার্ট ক্যাথিড্রালে যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন ৪০ বছর বয়সী ফাদার শাফাকাত জন।
বিগত ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেমিনারীতে যোগদান করেন। তবে সেমিনারীতে গঠনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারনে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেমিনারী ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে প্রায় অনেকগুলো বছর তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষক হিসেবে এবং বিভিন্ন ধর্মপল্লীর সাথে যুক্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা কাজ করেছেন। এ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি তার নিজ নিজ জীবনে ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে বুঝতে চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য যে তিনি বাইরে থাকাকালীন সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগসহ নিরাপদ চাকরি, পারিবারিক জীবন ও বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তারপরে ও তিনি তার জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ ছিলেন।
পরর্বতীতে তিনি সেন্ট অ্যান্থনি’স-এ শিক্ষকতা করার সময় আর্চবিশপ সেবাস্টিয়ান ফ্রান্সিস তাকে পুনরায় যাজকীয় জীবনে ফিরে আশার আমন্ত্রণ জানান , এবং তার জীবনে ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে বোঝার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অনুপ্রেরণা দান করেন। তাই তিনি তিন দিন প্রার্থনা ও গভীর চিন্তার পর তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় সেমিনারিতে ফিরে আসেন।
র্দীঘ ধ্যান প্রার্থনার পরে তিনি লাহোরের বিশপ খালিদ রহমত তাকে যাজক পদে অভিষেক প্রদান করেন। ফাদার শাফাকত জন যাজক পদে অভিষিক্ত হয়ে ১৪ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ নিজ ধর্মপল্লী সেন্ট যোসেফ‘স র্গীজায় প্রথম পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎর্স্বগ করেন।
ফাদার শাফাকাত বলেন, “পুরোহিত হওয়াই আমার প্রকৃত আহ্বান। ঈশ্বর যেমন যোনাকে পথ দেখিয়েছিলেন, তেমনি আমাকেও আবার ফিরিয়ে এনেছেন।”
তিনি বলেন, সেমিনারির বাইরে কাটানো ১০ বছর তাঁর জন্য বৃথা যায়নি; বরং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম বুঝতে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সেবার আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর করতে সাহায্য করেছে।
অভিষেকের দিনে প্রয়াত বাবা-মায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি আমার বাবা-মায়ের প্রার্থনাময় জীবনের ফল। এই পুরোহিত্ব আমি তাঁদের উৎসর্গ করছি।”
বর্তমানে ফাদার শাফাকাত লাহোর মহাধর্মপ্রদেশে পালকীয় কাজে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কারিতাস লাহোরের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েছেন।– আরভিএ সংবাদ ।
