কার্ডিনাল ডেভিড: এশিয়ার বিভাজন আহ্বান জানায় খ্রিষ্ট মণ্ডলীকে সেতু গড়তে, প্রাচীর গড়তে নয়
বিগত ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে, ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্সেস (এফএবিসি)-এর দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে, কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড বলেছেন, “এশিয়ায় খ্রিষ্ট মণ্ডলীর কাজ সুরক্ষামূলক প্রাচীরের আড়ালে লুকিয়ে যাওয়া নয়, বরং সংলাপের সেতু নির্মাণ করা বিভাজনে জর্জরিত সমাজগুলোর মধ্যে।“
এশিয়ার অনেক দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলোর নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নের জবাবে কার্ডিনাল ডেভিড বলেন, “খ্রিষ্ট মণ্ডলীর সংখ্যালঘু মর্যাদাকে কোনো অসুবিধা হিসেবে না দেখে, বরং সংলাপ, পুনর্মিলন এবং ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে সুসমাচারের সাক্ষ্য দেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
"প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর তৈরি করা নয়, বরং সেতু নির্মাণ করা সংলাপের উদ্দেশ্যে," বলেছেন ফিলিপাইনের কালোকান প্রদেশের বিশপ এবং এফএবিসি-র সহ-সভাপতি কার্ডিনাল ডেভিড।
যখন আমরা সেতুবন্ধনকারী হওয়ার কথা বলি, তখন আমরা স্বীকার করি যে বিভেদের কারণেই সেতু নির্মিত হয়। এশিয়ার অনেক অংশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলো এক একটি ছোট পশুর পালের মতো বাস করে এবং তা প্রায়শই মেরুকরণ ও উত্তেজনায় পূর্ণ পরিস্থিতিতে,” তিনি আরও বলেন।
তাঁর মন্তব্যগুলো সপ্তাহব্যাপী সমাবেশের মূল বিষয়বস্তুকে প্রতিফলিত করছে, যার শিরোনাম, “সিনোডাল রূপান্তরের আহ্বান এবং এশিয়ায় সেতু ও সেতুবন্ধন নির্মাতা হওয়ার মিশন” (The Call to Synodal Conversion and the Mission to Be Bridges and Bridge-Builders in Asia)। এই সমাবেশের জন্য ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাকার্তায় এফএবিসি-র ২২টি সদস্য বিশপ সম্মেলন এবং ধর্মীয় এখতিয়ার থেকে ১২০ জনেরও বেশি কার্ডিনাল ও বিশপ একত্রিত হয়েছেন।
কার্ডিনাল ডেভিড বলেছেন, এই মূল ভাবটি কোনো আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং এশিয়ার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর আবাস স্থল এই মহাদেশটি সংঘাত, দারিদ্র্য, অভিবাসন, সামাজিক অবিচার এবং ক্রমবর্ধমান মেরুকরণসহ নানা ধরনের অবিরাম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মণ্ডলীকে বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে মিলনকে উৎসাহিত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
কার্ডিনাল ডেভিডের মতে, সংলাপের জন্য মানুষকে তাদের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে হয় না। বরং, ভিন্ন বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা স্বীকার করা এবং অভিন্ন মঙ্গলের সন্ধান করার মাধ্যমেই এর সূচনা হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলোর, এমনকি যেখানে তারা ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু, সেখানেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে পুনর্মিলন ও সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ভূমিকা রয়েছে।
দ্বাদশ এফএবিসি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ২৬শে জুলাই পর্যন্ত প্রার্থনা, ইউক্যারিস্টিক উদযাপন, আত্মার কথোপকথন, আঞ্চলিক সভা এবং সম্মিলিত বিবেচনার মাধ্যমে চলবে। অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, তারা এশিয়া জুড়ে সিনোডালিটি বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবসম্মত পালকীয় দিকনির্দেশনা তৈরি করবেন এবং একই সাথে মণ্ডলীর মিলন, অংশগ্রহণ ও সংলাপের উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করবেন।
কার্ডিনাল ডেভিডের বার্তাটি সমাবেশের অন্যতম প্রধান একটি বিশ্বাসকে তুলে ধরেছে: এশিয়ায় খ্রিষ্ট মণ্ডলীর বিশ্বাসযোগ্যতা তার সংখ্যা বা প্রভাব দিয়ে পরিমাপ করা হবে না, বরং শান্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আশার সন্ধানে থাকা সমাজগুলোতে সেতুবন্ধনকারী হয়ে ওঠার সদিচ্ছা দিয়ে পরিমাপ করা হবে। প্রতিবেদন - গ্যাব্রিয়েল আবদি সুসান্তো। অনুবাদ – অতনু দাস।
