গুল্টা আভে মারীয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবারে জপমালা প্রার্থনা বিষয়ক সেমিনার
গত ৭ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় হলিক্রস ফ্যামিলি ও রোজারী মিনিস্ট্রি’র সহযোগিতায় গুল্টা আভে মারীয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবারে জপমালা প্রার্থনা বিষয়ক সেমিনার।
এ সেমিনারের মূলসুর ছিল, “এসো জপমালা প্রার্থনা করি, কুমারী মারীয়ার আদর্শে জীবন গড়ি”। এতে ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত, সহকারী পাল পুরোহিতসহ ৩ জন ফাদার, ৪ জন সিস্টার, বিভিন্ন গ্রামের মারীয়া সংঘ, মহিলা-পুরুষ, বোর্ডিং-এর ছেলেমেয়েসহ প্রায় ১৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।
আগের দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের শুরুতে ছিলো রোজারীমালা প্রার্থনা, পাপস্বীকার ও মা মারীয়ার বিষয়ক ভিডিও প্রদর্শন।
পরের দিন সকালে সেমিনারে ফাদার অনিল মারাণ্ডী মূলবিষয়ের উপর আলোচনা করেন। ফাদার বলেন, “মা শব্দটি এতো মধুর, যখনই মা শব্দটি শুনি ঠিক তখনই হৃদয়ের মধ্যে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও মধুর ভালবাসার অনুভূতি জেগে উঠে।”
তিনি আরো বলেন, “কাথলিক খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে জপমালা প্রার্থনার মাধ্যমে ভক্তি, ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়া, নিবেদন-আবেদন, শ্রদ্ধা মা মারীয়ার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের নিকট নিবেদন করি।”
“ভক্তির অর্ঘ্যের এই নিবেদনের মধ্য দিয়েই মা মারীয়াকে আমাদের পরিবারের রাণী, খ্রিস্টমণ্ডলীর মাতা এবং সকলের মা হিসেবে গ্রহণ ও বরণ করেছি,” বলেন ফাদার মারাণ্ডী।
এরপর মা মারীয়ার প্রতিমূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা শেষে সকলে পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশে ফাদার অনিল মারাণ্ডী মা মারীয়ার ৯টি গুণ সহভাগিতা করেন।
তিনি বলেন, “সাধু দামাসিন লিখেছেন, সূর্যোদয়ের আগে ভোর যেমন সমস্ত আকাশ রঙিন করে তোলে, তেমনি মানবমুক্তি-দিবাকরের উদয়ের আগে নির্মলা কুমারী মারীয়ার জন্ম যেন মানব-ভাগ্য আকাশে মুক্তির প্রথম কিরণ।”
দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার দলিলে বলা হয়েছে, “মারীয়া হচ্ছেন পরিত্রাণের আশা ও আলোকচ্ছটা। পবিত্র খ্রিস্টযাগে মারীয়া সংঘের সদস্যাগণ প্রতিজ্ঞা নবায়ন করেন।
পবিত্র খ্রিস্টযাগের পর সংঘের সদস্যাদের মা মারীয়ার ছবি প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী সাথী রায় তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি একজন বোর্ডিং দিদিমনি। আজকে মা মারীয়া ও রোজারীমালা সম্পর্কে ক্লাস পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। আমার বিশ্বাস অনেক দৃঢ় হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমার মা অনেক অসুস্থ ছিল। আমি প্রতিদিন মা মারীয়ার মধ্যস্থতায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি। ঈশ্বর আমার মায়ের প্রতি অনেক সদয় হয়েছেন। আমার মা এখন অনেকটাই সুস্থ।” - ফাদার অনিল ইগ্নেসিউস মারাণ্ডী
