বাগানপাড়া উত্তম মেষপালক কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রা

উত্তম মেষপালক কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টভক্তদের নিয়ে খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রা

গত ৭ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দরাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত উত্তম মেষপালক কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টভক্তদের নিয়ে খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রা।

ধর্মপল্লীর খ্রিস্টভক্তদের নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিপূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রভু যিশু খ্রিস্টের দেহ ও রক্তের পর্বোৎসব উপলক্ষে যিশুর পবিত্র দেহকে নিয়ে খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রা করা হয়।

এই খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রায় ফাদার ফাবিয়ান মার্ডী, ফাদার উইলিয়াম মুর্মু, ফাদার বিশ্বনাথ মারাণ্ডী, ফাদার অনিল মার্ডী, ফাদার জের্ভাস মুর্মু, ডিকন মিঠুন গমেজ এবং সাধু পিতর সেমিনারীর সেমিনারীয়ান ও সিস্টারগণ এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রার পথে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ, স্তবগান, অনুধ্যান এবং আশির্বাদ প্রদান করা হয়। বিশেষভাবে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সিস্টারদের সহযোগিতা এবং সেমিনারীয়ানদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে আরও সুন্দর ও সফল করে তুলে।

মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের চারটি প্রধান রাজতন্ত্রের অবসানের পর এই উৎসবটি খ্রিস্টের প্রকৃত রাজত্বের উপর জোর দেয়।

বাগানপাড়া উত্তম মেষপালক কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রা

নাস্তিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থানের প্রতিক্রিয়া জানাতে এই উৎসবটি সমগ্র বিশ্বে আজ অবদি আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক মহোৎসব। যিশু সমগ্র মহাবিশ্বে পেশী শক্তি দিয়ে নয় বরং ভালবাসা, ক্ষমা, সেবা ও ন্যায়-নীতির মধ্য দিয়েই তাঁর মহাপ্রতাপ ও শান্তির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

একজন অংশগ্রহণকারী তার মনের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আসলে খ্রিস্টরাজার রাজত্ব মানুষের হৃদয়ে। তার রাজত্ব ভালবাসার রাজত্ব। এই ভালবাসার চরম নির্দশন দেখাতে গিয়ে নিজেকে রিক্ত করে ক্রুশে ঝুলে প্রাণ দিয়েছেন। ক্রুশেই খ্রিস্টরাজার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে।”

খ্রিস্টরাজা আমাদের সেবা, ক্ষমা ও ভালোবাসার পথ দেখিয়ে গেছেন। তিনি নম্রতার উত্তম আদর্শ। বিশ্ব রাজ খ্রিস্টের একান্ত ইচ্ছা আমরা যেন পরস্পরকে ভালোবাসি এবং প্রভু যিশুর ভালোবাসার আশ্রয়ে থাকি,” বলেন অংশগ্রহণকারী।

ধর্মপল্লীর খ্রিস্টভক্তগণ গভীর বিশ্বাস, ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।পরিশেষে পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ এর মধ্য দিয়ে এই খ্রিস্টপ্রসাদীয় শোভাযাত্রার অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। - ডিকন মিঠুন গমেজ