বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিশিষ্ট শিক্ষকের সম্নাননা পেলেন ফাদার শংকর গমেজ
গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সরকারি উদ্যোগে ১০০ জন বিশিষ্ট শিক্ষকের মধ্যে সম্নাননা পেলেন ফাদার শংকর গমেজ । বর্তমানের তিনি নাটোরের বনপাড়ায় অবস্থিত সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য যে, ৫ অক্টোবর ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। উক্ত এই অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ফাদারর হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। পাশাপাশি তাঁকে দুই লাখ টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়।
রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্যতম এক বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফাদার শংকর ফিলিপাইন থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সান্তো টমাস থেকে শিক্ষা নেতুত্ব এভং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ম্যানিলার দে লা সাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সেবাদান করছেন ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজ। তাঁরই সুনিপুণ এবং দক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
উক্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পরিবারের সন্তান। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশে বেড়ে উঠছে।
ফাদার গমেজ বলেন“শিক্ষা কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যম নয়। তাঁর মতে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।” তাই তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের শাসনের পরিবর্তে ভালোবাসা, উৎসাহ ও ব্যক্তিগত যত্নের মাধ্যমে গড়ে তোলার চেষ্টায় তিনি নিরত থাকেন।” এছাড়া পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বুঝতে শিক্ষকরা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও যান।
শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব ও নৈতিক অঙ্গীকার। একজন শিক্ষক তাঁর জ্ঞান, সময় ও ভালোবাসার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন। তাই শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা নয়, বরং তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, বলেন ফাদার গমেজ।”
এছাড়া সরকারি এই সম্মাননা সম্পর্কে ফাদার গমেজ বলেন, এটি তাঁর একার স্বীকৃতি নয়; বরং তাঁর সঙ্গে কাজ করা শিক্ষক, কর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে মানবিকতা, নৈতিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যেতে চান। - আরভিএ সংবাদ ।
