এফএবিসি প্লেনারি অ্যাসেম্বলিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ক্যাথলিকদের প্রত্যাশা: তৃণমূল পর্যায়ে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার আহ্বান

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্স (FABC)-এর ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলি।

জাকার্তা: আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্স (FABC)-এর ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলি। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতারা এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে পাকিস্তানের ক্যাথলিকরা মনে করছেন, এই অধিবেশন আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সিনোডাল চেতনা এবং এশিয়ার সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি আরও সুদৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

এবারের প্লেনারি অ্যাসেম্বলির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, সিনোডাল রূপান্তর এবং এশিয়ায় বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে সেতুবন্ধন  ও সেতুবন্ধন নির্মাতা হওয়ার আহ্বান।এই অধিবেশনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশপ, ধর্মীয় নেতা ও মন্ডলীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতা, ধর্মীয় সংঘের সদস্য, সাধারণ খ্রীষ্টবিশ্বাসী এবং সাধারণ মানুষেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই অধিবেশন বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে, মন্ডলীর সুসমাচার প্রচারের মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের পিস সেন্টারের পরিচালক ডোমিনিকান ফাদার জেমস চ্যানান বলেন, প্রকৃত সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংলাপ এবং পূর্বধারণা দূর করার মধ্য দিয়ে।

তিনি জানান, পাকিস্তানে প্রায় ২০০টি আন্তঃধর্মীয় সংগঠন সেমিনার, সাংস্কৃতিক মত বিনিময় এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এফএবিসি ভবিষ্যতেও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং তরুণদের বিশ্বাস গঠনের পক্ষে সোচ্চার হবে।

লাহোরে ডটার্স অফ সেন্ট পল ধর্মীয় সংঘের ডেলিগেট সুপিরিয়র সিস্টার ম্যাগডালিন ইসহাক বলেন, সেতুবন্ধন শুরু হয় প্রতিদিনের সাধারণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে—গণমাধ্যমের সেবা, পালকীয় কার্যক্রম এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে।

তিনি আশা করেন, এই অ্যাসেম্বলি নতুন উদ্যমে মিশনারি চেতনাকে জাগ্রত করবে এবং সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের সুসমাচারের বিশ্বস্ত সাক্ষী হয়ে থাকতে উৎসাহিত করবে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধায় অবস্থিত ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি ধর্মপ্রদেশের যাজক ফাদার সানাওয়ার নাভিদ বলেন, এশিয়ার মন্ডলী গুলির জন্য এই অধিবেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনোডাল মঞ্চ, যেখানে সাধারণ পালকীয় প্রতিকূলতাগুলো নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা ও পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।

তিনি আশা করেন, এই আলোচনার মাধ্যমে এমন বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যা ধর্মপল্লীগুলিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে আরও সহায়তা করবে।

সম্প্রতি অভিষিক্ত ডোমিনিকান যাজক ফাদার রুফন লরেন্স বলেন, প্রকৃত সেতুবন্ধন আনন্দময় খ্রীষ্টীয় সাক্ষ্য, বিনম্র সেবা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি সংহতি গড়ে তোলা

তিনি প্রার্থনা করেন, যেন পবিত্র আত্মা এই অ্যাসেম্বলিকে পরিচালিত করেন এবং সিনোডাল চেতনাকে আরও গভীর করার পাশাপাশি শান্তি ও পুনর্মিলনের প্রতি মন্ডলীর অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেন।

ফোকোলারে মুভমেন্টের সদস্য মিশাল মারিয়া বলেন, ঐক্যের আধ্যাত্মিকতা তরুণদের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ অতিক্রম করে সংলাপ এবং যৌথ সেবার মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার বাস্তব পথ দেখায়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এফএবিসি সাধারণ বিশ্বাসীদের বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে আরও নিবিড় সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে, যা প্রান্তিক পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দ্য ট্রুথ নিউজ-এর চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক তারিক সিরাজ বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজে বিভাজন কমাতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আশা করেন, এফএবিসি মন্ডলীর যোগাযোগ কৌশল আরও শক্তিশালী করতে এবং সমাজে খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের ইতিবাচক অবদান তুলে ধরতে উৎসাহিত করবে।

দাতব্য সংস্থা সোয়িং লাভ, পিস অ্যান্ড কেয়ার-এর চেয়ারপারসন বারবারা ফ্রান্সিস বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাতেও সেতুবন্ধনের চেতনা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

তিনি নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এফএবিসি যেন এশিয়া জুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করে  তুলতে পারে।

তরুণ ক্যাথলিক মানবাধিকারকর্মী আশকনাজ খোখার বলেন, অনেক তরুণের কাছে সেতুবন্ধন মানে মানবিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একসঙ্গে দাঁড়ানো।

তিনি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সংহতি, শক্তিশালী জনসচেতনতা, আইনি সহায়তা এবং এশিয়ার বিভিন্ন মন্ডলীগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আরও কার্যকরীভাবে সুরক্ষা লাভ করে

আগামী ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস কনফারেন্স -এর ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলিতে এশিয়ার বহু ধর্মীয় ও বহু সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় সংলাপ, পুনর্মিলন এবং সেতুবন্ধন নির্মাণের মিশনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Bengali pop up image