বান্দুরা ক্ষুদ্রপুষ্প সাধ্বী তেরেজা সেমিনারীর শতবর্ষ জুবিলি অনুষ্ঠান উদযাপন

গত ২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মহা সমারোহে ধর্মীয়ভাব গার্ম্ভীযে পালিত হলো বান্দুরা ক্ষুদ্রপুষ্প সাধ্বী তেরেজা মাইনর সেমিনারীর শতবর্ষ জুবিলি অনুষ্ঠান। ঐতিহ্য ও গৌরবের এই শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেমিনারীর দীর্ঘ পথচলা ও অবদানকে স্মরণ করা হয়।

উক্তএই অনুষ্ঠানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি'ক্রুজ ওএমআই, শ্রদ্ধেয় বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ, বিশপ থিওটোনিয়াস গমেজ, বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, বাংলাদেশ অ্যাপোস্টলিক নুনসিও কেভিন রান্ডালসহ বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত অসংখ্য ফাদারগণ ব্রাদার গণ সিস্টার গণ সহ প্রাক্তন সেমিনারীয়ান ও সাধারণ খ্রিস্টভক্তগণ।

শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষনে শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন ওড়ানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেমিনারির পরিচালক ফাদার ঝলক আন্তনী দেশাই। তিনি বলেন“শত বছরের এই পথচলা আসলে ঐশী অনুকম্পা এবং মানবীয় সর্মপনের এক অপূর্ব যুগলবন্দি। অতীতের গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে তাকালে আমার মন শ্রদ্ধায় অবনত হয়। স্মরণ করি সেইসব দূরদর্শী বিশপ, গঠন পরিচালক, সহকারী পরিচালক, আধ্যাত্নিক পরিচালকএবং শিক্ষকবৃন্দ যারা নিজেদের ক্ষয় করে সেমিনারির প্রতিটি কক্ষে জ্ঞানের ও আধ্যাত্নিকতার আলো জালিয়ে দিয়েছেন।“

শতবর্ষ জুবলির পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি'ক্রুজ ওএমআই। খ্রিস্টযাগের শুরুতেই শত বছরের দশটি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন।

পরম শ্রদ্ধেয় আর্চবিশপ তার উপদেশ বাণীতে সেমিনারীর ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন," বিশ্বাস ,আশা এবং ভালোবাসা। এখান থেকে আশা এবং বিশ্বাস একদিন শেষ হবে কিন্তু ভালবাসা শেষ হবে না। ক্ষুদ্র পুষ্প সাধ্বী তেরেজা তিনি যীশুকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন। আর বাণী প্রচারের জন্য তিনি অন্তরে অনেক উপলব্ধি করেছেন। বাণী প্রচারকদের জন্য তিনি সারাজীবন প্রার্থনা করে গেছেন। যেন যীশুকে এই জগতের মানুষ আরো চিনতে পারে আরো জানতে পারে এবং যীশুকে ভালবাসতে পারে।"

 তিনি আরো বলেন" আজ থেকে একশ বছর আগে ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ৩ একর জায়গার উপরে যাজকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা জন্য এই ক্ষুদ্র-পুষ্প সেমিনারীর জন্ম হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তে এই জায়গায় অনেক স্থাপনাদির মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য ও আদর্শ এখন পর্যন্ত একই রয়ে গেছে যার কোন পরিবর্তন হয়নি।

যাজকদের আধ্যাত্মিক মানসিক নৈতিক ও সার্বিক শিক্ষা এই সেমিনারির মুখ্য উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকেই সামনে রেখে এখন পর্যন্ত পথ চলে যাচ্ছে এই সেমিনারি" বলেন আর্চবিশপ ডি’ক্রুশ ওএমআই।


পবিত্র খ্রিষ্টযাগ শেষ করার পরবর্তীতে এই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশেষ স্মরণিকা উদ্বোধন ও মড়ক উন্মোচন করা হয়।

পরিশেষে শতবর্ষ জুবিলি কমিটির আহব্বায়ক মন্সিনিয়র গাব্রিয়েল কোড়াইয়া  অন্যান্য সকল কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন যে ঈশ্বরের অসীম আর্শীবাদের জন্য আমি তার ধন্যবাদ ও প্রশংসা করি। তারই আর্শীবাদে আমরা বান্দুরা ক্ষুদ্রপুষ্প সাধ্বী তেরেজা সেমিনারীর শতবর্ষ জুবিলি অনুষ্ঠান  সার্থক এবং সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পেরেছি। এই জুবিলির কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে যারা যেভাবে সাহায্য সহোযোগিতা করেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। উক্ত এই জুবিলির অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০০ হাজার খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।  - আরভিএ সংবাদ ।

 

Bengali pop up image