বেনীদুয়ার যীশুর পবিত্র হৃদয়ের গীর্জার শতবর্ষ জুবিলী উদযাপন
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বেনীদুয়ার যীশুর পবিত্র হৃদয়ের গীর্জার শতবর্ষ জুবিলী উদযাপন করা হয়।
এই জুবিলী উৎসবকে কেন্দ্র করে বেনীদুয়ার ধর্মপল্লী বিভিন্ন গ্রাম থেকে খ্রিস্টভক্তরা অংশগ্রহণ করেন এবং বিশেষ আর্শীবাদ লাভ করেন ।
শতবর্ষের জুবিলী উপলক্ষ্যে ২৮ শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পবিত্র আরাধনা করা হয় এবং ২৯ শে ডিসেম্বর সকালে মহাসমারোহে খ্রীস্টযাগের মধ্য দিয়ে জুবিলী উৎসব উৎযাপন করা হয়।
এই জুবিলী উপলক্ষ্যে খ্রীস্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী, ঢাকা থেকে আগত ফাদার প্রশান্ত রিবেরু, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ এবং দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের যাজকগণ, সিস্টারগণ এবং খ্রিস্টভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র খ্রিস্টযাগে বিশপ তার উপদেশ বাণীতে বলেন “জুবিলী হলো ঈশ্বরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বে পিমে মিশনারীদের দ্বারা এ অঞ্চলে খ্রিস্টবিশ্বাসের বীজ রোপিত হয়েছিল।”
বিশপ আরো বলেন, “খ্রিস্টজুবিলী বর্ষে এই গীর্জার ১০০ বছর পূর্তি উৎসব আমাদেরকে আধ্যাত্মিক ভাবে বিশ্বাসে আরো দৃঢ় হতে আহ্বান করে।”
ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার মাইকেল কোড়াইয়া বলেন, “বেগুনবাড়ী গ্রামের মি. গাব্রিয়েল তপ্ন’র হাত ধরে যে বিশ্বাসের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ১৯২৫ সালে। আর এই বছর তার শত বছর পূর্ণ হয়েছে। জুবিলী বর্ষে আমাদের আনন্দ, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছি এবং আগামী দিনগুলির জন্য আমরা ঈশ্বরের মহান আর্শীবাদ ও কৃপাশি যাঞ্জনা করি।”
ফাদার কোড়াইয়া বলেন, “জুবিলী মানে আনন্দ, একটু আত্মমূল্যায়ন করা এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেওয়া। এই জুবিলী বর্ষ আমাদের প্রত্যেকের জন্য আর্শীবাদের বর্ষ, পুণ্য বর্ষ।”
ফাদার আরো বলেন, “খ্রীষ্ট প্রভু বলেছেন, আমি পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমাকে বিশ্বাস করবে সে অনন্ত জীবন লাভ করবে। এই জুবিলী বর্ষের আর্শীবাদ সবার মাঝে ঝরে পড়ুক এইটা আমার প্রত্যাশা।”
“আগামী দিন গুলিতে নতুন শতাব্দীতে নতুন সহস্রব্দীদে মঙ্গলময় করুণাময়ের আর্শীবাদ এং গুরু দায়িত্ব ভার বহন করা সুন্দর হোক, শুভ হোক - এই প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা করি,” বলেন ফাদার মাইকেল।
বেনীদুয়ার ধর্মপল্লীর একজন খ্রিস্টভক্ত তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমাদের ধর্মপল্লীর গীর্জার ১০০ বছর পূর্তিতে আমি অনেক আনন্দিত কারণ এখান থেকেই এই এলাকায় বাণী প্রচার করা হয়েছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি ধর্মপল্লীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।” - ফাদার বিনেশ তিগ্যা