রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হলো যিশুর জন্মজয়ন্তীর জুবিলী বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ক্যাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো যিশুর জন্মজয়ন্তীর জুবিলী বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান

গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দরাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ক্যাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো যিশুর জন্মজয়ন্তীর জুবিলী বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান।

জুবিলী সমাপনী উৎসবে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ, ফাদার, সিস্টার, ব্রাদার, সেমিনারিয়ান ও  বিভিন্ন ধর্মপল্লী ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রায় ৩০০০ জন খ্রিষ্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে জুবিলী উৎসবের শুভ সূচনা হয়। আনন্দ র‍্যালির পরপরই জুবিলী স্মারক ক্রুশ উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করেন বিশপ জের্ভাস ও অন্যান্য ফাদারগণ।

প্রভু যিশুর আত্মপ্রকাশ মহাপর্বের দিন জুবিলীর মহাখ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও এবং সহার্পিত খ্রিস্টযাগে অংশ নেন অন্যান্য ফাদারগণ।

বিশপ জের্ভাস তার উপদেশ বাণীতে বলেন, “জুবিলী হলো মন পরিবর্তন ও ত্যাগস্বীকারের সময়। জুবিলী বর্ষ আমাদের আহ্বান করে অন্ধের কাছে আশার বাণী ঘোষণা করতে। বিশেষত যারা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যাওয়া আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।”

যিশুর জন্মজয়ন্তীর জুবিলী বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান

জুবিলী বর্ষে আমরা আশা নিয়ে যাত্রা করছি। এ পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুর আশা করি কিন্তু আমাদের একমাত্র আশা হওয়া উচিত পিতার সাথে মিলিত হওয়া। পিতার সাথে মিলিত হওয়ার আশা পূরণের জন্য আমাদের তাঁর দেখানো পথে চলতে হবে। যিশুখ্রিস্ট আমাদের প্রত্যেককে তার শিষ্য হতে আহ্বান করেন তাই আমাদেরও উচিত তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পবিত্র জীবনযাপন করা,” বলেন বিশপ রোজারিও।

ফাদার হেনরী পালমা জুবিলী বর্ষে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “জুবিলী বর্ষ আমাকে ভীষণভাবে আধ্যাত্মিকতায় প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। আমার ধর্মপল্লীতে আমি খ্রিস্টভক্তদের সাথে জুবিলীর আনন্দ সহভাগিতা করেছি এবং লক্ষ্য করেছি জুবিলীর উন্মাদনা। আমরা আশার তীর্থযাত্রী এ দুটি শব্দ নিয়ে আমরা সারাবছর ধ্যান করেছি তবে আমাদের তীর্থযাত্রা শেষ নয় বরং আমাদের প্রতিনিয়ত স্বর্গের পথে যাত্রা করতে হয়।”

একজন খ্রিস্টভক্ত সবিতা মারান্ডী তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “একজন খ্রিস্টভক্ত হিসেবে জুবিলী বর্ষে আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করেছি এবং আত্নমূল্যায়ন করেছি। জুবিলী বর্ষে চেষ্টা করেছি নিজেকে ধরিত্রী মায়ের সেবায় নিয়োজিত করতে।”

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে অনুষ্ঠিত হলো যিশুর জন্মজয়ন্তীর জুবিলী বর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান

তিনি আরো বলেন, “আমার সুযোগ হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায় তীর্থ করার আর সেখানে লক্ষ্য করেছি ভক্তজনগণের আধ্যাত্মিকতা। সবচেয়ে যে বিষয়টি আমাকে নাড়া দিয়েছে তা হলো যুব আধ্যাত্মিকতা। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তীর্থস্থানে ভক্তি প্রদর্শন সত্যিই অনেক বেশি অভিভূত করেছে। জুবিলীর পুণ্যবর্ষে আমাদের ধর্মপ্রদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছিল যা আমাদের আধ্যাত্মিকতায় বলীয়ান হতে অনেক বেশি সহায়তা করেছে।”

জুবিলী সমাপনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ফাদার প্রেমু রোজারিও বলেন, “আজকে এ অনুষ্ঠান সফল করতে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষভাবে বিশপ মহোদয়কে যিনি জুবিলী বর্ষে তার পালকীয় পত্র লিখে আমাদের আলোকিত করেছিলেন এবং বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। আজকের দিনে আমি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।” -  ডানিয়েল লর্ড রোজারিও