নিতিকা ডন বস্কো, কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের বেসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
কলকাতা, ৩১ আগস্ট ২০২৬: বিগত ২৮ ও ২৯ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বিশ্বাসকে জীবনের প্রতিদিনের পথচলার সঙ্গে যুক্ত করে তাকে সেবা ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করার আহ্বানকে সামনে রেখে কলকাতা সেলেশিয়ান প্রভিন্সের ক্যাটেকেটিক্যাল ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে নিতিকা ডন বস্কো, কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের বেসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
“ধর্মপল্লীগুলিতে পালকীয় সেবা: দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয়ভাবে বিশ্বাসের অনুশীলন”—এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ক্যাটেকিস্ট, পালকীয় ও ক্যাটেকেটিক্যাল কাজে যুক্ত ধর্মীয় এবং বিভিন্ন ধর্মপল্লীর সাধারণ খ্রীষ্টভক্তদের পরিচয়, ভূমিকা ও মিশনকে আরও শক্তিশালী করা।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ২১ জন এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রবিবাসরীয় ধর্মশিক্ষা ক্লাসের শিক্ষক-শিক্ষিকা, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি, ডটার্স অফ সেন্ট অ্যান, বেথানি সিস্টার্স, অ্যাডোরার্স, ডিসাইপলস এবং পরিবার ও ধর্মপল্লীর বিভিন্ন প্রেরিতকাজের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা।
দুই দিনের কর্মসূচিটি ছিল অংশগ্রহণমূলক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক। প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিভিন্ন অধিবেশনে ছিল আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনা, দলীয় কাজ, ব্যবহারিক কর্মশালা, ভূমিকা, প্রদর্শন, বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং পাঠ পরিকল্পনা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শুধু বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়াই নয়, বরং বাস্তব পালকীয় জীবনে সেই জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তারও সুযোগ তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন ফাদার সরোজ মল্লিক এসডিবি, ফাদার আলফ্রেড পল এসডিবি, শ্রী সুদীপ্ত দে, ফাদার রবি সরকার এসডিবি এবং সিষ্টার ললিতা পারমার এসএমআই।
আলোচনায় ক্যাটেকিস্ট ও সাধারণ খ্রীষ্টভক্তদের আহ্বান ও উদ্দেশ্য, বর্তমান ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ক্যাটেকেটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন, বাইবেলভিত্তিক ক্যাটেকেসিস, ধর্মপল্লির পালকীয় নেতৃত্ব, পরিবারকেন্দ্রিক সেবা এবং লিটার্জিক্যাল অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সুসমাচার প্রচারের বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ক্যাথলিক মন্ডলীর ধর্মশিক্ষা (CCC), YOUCAT এবং DOCAT সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের গঠনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঠ পরিকল্পনা ও এমাউস মেথড (Emmaus Method)-এর ব্যবহার, বর্তমান ডিজিটাল সংস্কৃতির প্রভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং বিশ্বাস গঠনের কাজে ডিজিটাল মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাটেকেসিসকে কীভাবে আরও সৃজনশীল ও কার্যকর করা যায়, সেই দিকটিও প্রশিক্ষণে উঠে আসে।
কর্মশালার দুই দিনে পবিত্র খ্রীষ্টযাগ, প্রার্থনা, ব্যবহারিক কর্মশালা ও মূল্যায়নের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় শংসাপত্র বিতরণ। সমাপনী পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ধর্মপল্লীর শিয়ান প্লান কে কি বলে জানো ও বিদ্যালয়ের জন্য ক্যাটেকেটিক্যাল অ্যাকশন প্ল্যান প্রস্তুত করেন। এর মাধ্যমে কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তব ধর্মপল্লীগুলি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের আহ্বান ও দায়িত্ব পালনে নতুন আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তাঁরা ক্যাটেকেসিসকে আরও শক্তিশালী করা, পরিবারকেন্দ্রিক সুসমাচার প্রচারকে উৎসাহিত করা, বাইবেল ও ধর্মশিক্ষাকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, ডিজিটাল মাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো এবং ধর্মপল্লীর পালপুরোহিতদের সঙ্গে সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার করেন।
দুই দিনের এই কর্মশালা শেষ হলেও এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ এখানেই শেষ নয়। বরং বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ক্যাটেকিস্ট, ধর্মীয় ও সাধারণ খ্রীষ্টভক্তদের মধ্যে ধারাবাহিক গঠন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠেছে। বিশ্বাসের শিক্ষা যেন কেবল শ্রেণিকক্ষ বা ধর্মপল্লীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং পরিবার, সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়—এই প্রত্যয় নিয়েই কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিবেদন - ফাদার সরোজ মল্লিক SDB
অনুবাদ - তেরেসা রোজারিও
