সিবিসিবি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো সৃষ্টি সুরক্ষা ও জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাব মোকাবেলায় সেমিনার

গত ২৯ আগষ্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মোহাম্মদপুর, সিবিসিবি সেন্টারে, এপিসকপাল কমিশন ফর প্রমোটিং ইন্টিগ্রাল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এবং দি সেন্ট্রাল এসোসিয়েশন অব খ্রিস্টান কো-অপারেটিভস (কাক্‌কো) লি:-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সৃষ্টি ও পরিবেশের সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি টেকসই ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সেমিনার ।

উক্ত এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো  ‘World Day of Prayer for the Care of Creation 2026’। “Uniting Faith, Science and Community for a Culture of Care” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশপ, ধর্মীয় নেতা, সমবায় নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, যুব ক্লাবের প্রতিনিধি এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৬০ জন নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি  এ সেমিনারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত এই অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ ক্রুজ ওএমআই, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চার্চ অব বাংলাদেশ’র বিশপ পল শিশির সরকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কমিশন’র চেয়ারম্যান রাজশাহীর বিশপ জের্ভাস রোজারিও ডিডি।
এছাড়া এ সেমিনারে  আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ও সুরক্ষা, সবুজ সমবায় - একটি নতুন মাত্রা, গ্রীণ কমিউনিটি এবং গ্রীণ চার্চ বিষয়ে উপস্থাপনা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমবায়, এনজিও, যুবসমাজ ও স্থানীয় কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্যানেল ডিসকাশন ও মুক্ত আলোচনা, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাঁদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের মতামত সংগ্রহ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশ ও সৃষ্টি সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে করণীয় নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তাগণ  উল্লেখ্য করেন যে, , সৃষ্টি ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া শুধু কোনো একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; বরং এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। নদীকে যদি আমরা বোন মনে করি এবং পাহাড়কে যদি আমরা ভাই মনে করি তবে, ধরিত্রী আমাদের জননী বা মা, আমরা নিজের মায়ের ক্ষতি আমরা করতে পারি না। সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক আমরা যেন নষ্ট না করি, বাঁধ তৈরী না করে আমরা যেন সেতু তৈরী করি।
আলোচনায় গ্রীণ কো-অপারেটিভ/সবুজ সমবায় ধারণার মাধ্যমে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়াও সমিতির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সদস্য ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বক্তাগণ তাদের বক্তেব্য আরো তুলে ধরে যে , আমাদের বিশ্বাস ধরীত্রীর যত্ন নিতে অনুপ্রাণিত করে, বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, আর সম্প্রদায় আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি প্রদান করে।আমরা সকলে একসাথে হয়ে গড়ে তুলতে পারি আমাদের সবুজ গির্জা, সবুজ বাড়ি, সবুজ সম্প্রদায় এবং আরও টেকসই সবুজ ভবিষ্যৎ। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image