ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়ন স্কুলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা (ঢাকা ক্রেডিট)-এর প্রকল্প ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়ন স্কুল-এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।
প্রভাতফেরী, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ভাষা শহীদদের আত্মার কল্যাণে নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সঙ্গে প্রভাতফেরীতে অংশ নেয়।
হাতে ফুল ও বাংলাভাষার লেখাযুক্ত ফেস্টুন নিয়ে তারা ভাষা শহীদদের স্মরণে অংশগ্রহণ করে। পরে স্কুল চত্বরে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্রেডিটের ডিরেক্টর সলোমন আই. রোজারিও, চিফ অফিসার সুইটি শিশিলিয়া পিউরিফিকেশন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিটার রতন গমেজ, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষকগণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
শিশুদের ভাবনায় ভাষার চেতনাবোধ ও মমত্ববোধ জাগ্রত করতে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, সমাজ ও অভিভাবক সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে এবং শিক্ষার সকল স্তরে বাংলা ভাষা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন ঢাকা ক্রেডিটের ডিরেক্টর সলোমন আই. রোজারিও।
চিফ অফিসার সুইটি শিশিলিয়া পিউরিফিকেশন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকে এই দিনটাকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের বাঙালি জাতির গৌরবের দিন।”
তিনি আরো বলেন, “সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আমরা মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা আমাদের সবার কর্তব্য।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিটার রতন গমেজ তার বক্তব্যে বলেন, “ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়ন স্কুল সবসময় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেন বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে পারে, সে বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ভাষা শহীদদের স্মরণে আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি মমত্ববোধ আরও দৃঢ় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” - ডিসিনিউজ