দিব্যস্থলী গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ফাদার উইলিয়াম মুর্মুর যাজকীয় জীবনের রজত জয়ন্তী উৎসব

মুন্ডুমালা ধর্মপল্লীর অধীনস্থ দিব্যস্থলী গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ফাদার উইলিয়াম মুর্মুর যাজকীয় জীবনের রজত জয়ন্তী উৎসব

গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত মুন্ডুমালা ধর্মপল্লীর অধীনস্থ দিব্যস্থলী গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ফাদার উইলিয়াম মুর্মুর যাজকীয় জীবনের রজত জয়ন্তী উৎসব।

রজত জয়ন্তী মহোৎসবে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী, বিডিপিএফ এর প্রেসিডেন্ট ফাদার মিন্টু পালমা সহ ৪৩জন যাজক, ২ জন ব্রাদার, ২০জন সিস্টার এবং ধর্মপল্লীর বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত প্রায় ১৪০০ খ্রিস্টভক্ত অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, রজত জয়ন্তী উদযাপনের পূর্বের দিন ২৯ জানুয়ারি ফাদার উইলিয়াম মুর্মুর মঙ্গল কামনায় পবিত্র আরাধনা ও মঙ্গলানুষ্ঠান করা হয়। পরে দিন ৩০ জানুয়ারি সকালে বিশপ,  ফাদার উইলিয়াম ও অন্যান্য অতিথিদের সান্তালী দাশাই নৃত্য ও পা ধোয়ানোর মধ্য দিয়ে বরণ করে নেন দিব্যস্থলী গ্রামবাসী।

এই জুবিলীর মহাখ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ফাদার উইলিয়াম মুর্মু এবং বিশপ ও অন্যান্য যাজকগণ সহার্পিত খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করেন।

খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে ফাদার উইলিয়াম মুর্মু বলেন, “আজকের দিনে আমি কৃতজ্ঞতা ভরা অন্তরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই তাঁর শত কৃপা আশীর্বাদের জন্য। তার আশীর্বাদের কারণেই আমি আজকের দিনে উপনীত হতে পেরেছি।”

রজত জয়ন্তী উদযাপনকারী ফাদার উইলিয়াম মুর্মু

জুবিলীর এই পুণ্যক্ষণে দাড়িয়ে আমি ধন্যবাদ জানাই আমার বিশপ ও যাজক ভাইদের যাদের সাথে থাকার কারণে কখনোই নিজেকে একা মনে হয়নি। আমারও আজ খুব করে সাধু জন মেরী ভিয়ান্নীর কথা মনে পড়ছে এবং চিন্তা করেছি আমি কতজনকে স্বর্গের পথ দেখাতে পেরেছি। যাজকীয় জীবনের বাকি দিনগুলোতে আরো গভীর ভাবে খ্রিষ্টকে ভালোবাসতে চাই এবং তার সেবাতেই বাকি জীবন কাটাতে চাই,” বলেন ফাদার মুর্মু। 

তিনি আরও বলেন, “আমার স্বর্গীয় পিতা-মাতা,  আমার ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী সকলকে আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ”

ফাদার তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “খ্রিস্টজন্ম জয়ন্তী ২০০০ সালে ডিকন হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছি এবং ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টজয়ন্তী বর্ষে যাজকীয় জীবনের রোপ্য জয়ন্তী পালন করছি যা আমাকে সৌভাগ্যবান করে তুলেছে।”

এই জয়ন্তী বর্ষে আবারও নতুন যাজকীয় জীবনে গভীরতায় প্রবেশ করতে চেষ্টা করছি খ্রিস্টের সঙ্গে যুক্ত থেকে অপর খ্রিস্ট হয়ে উঠতে। আমার বিগত দিনের যাজকীয় জীবনে সুন্দর ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও আর্শীবাদের জন্য পরম করুণাময় পিতা ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। জীবনের বাকী দিনগুলোও যেন কৃতজ্ঞ অন্তরে আরও অর্থপূর্ণ ও আনন্দর্পণভাবে জীবন উৎসর্গ করতে পারি,” বলেন ফাদর মুর্মু।

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, “আমরা আজকে অনেক আনন্দ উৎসব করছি এগুলো খুবই ভালো এবং অর্থপূর্ণ তবে আজকের দিনে আমাদের যা করা দরকার তা হলো প্রার্থনা। আমরা ফাদার উইলিয়াম এর জন্য প্রার্থনা করব এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাব। আমি অনেক খুশি কারণ ফাদার উইলিয়াম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ধর্মপ্রদেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

ফাদার উইলিয়াম আমাদের ধর্মপ্রদেশের একজন নিবেদিতপ্রাণ যাজক। তার পবিত্র জীবন যাপন, সততা, বিশ্বস্ততা, উদারতা, আত্মত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে আমাদের ধর্মপ্রদেশের খ্রিস্টভক্তগণসহ আমরা সকলেই আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত হচ্ছি,” বলেন বিশপ রোজারিও।

যাজকীয় জীবনের রজত জয়ন্তী উৎসবে অংশগ্রহণকারীগণ

বিশপ আরও বলেন, “ফাদার উইলিয়াম একজন দক্ষ পুরোহিত এবং তিনি বর্তমানে জুডিশিয়াল ভিকার, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিচালক এবং বিডিপিএফ এর সহ-সভাপতির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি ধর্মপ্রদেশ ও জাতীয় পর্যায়ে বহু সেবা দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন। আমি তার সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।”

বিডিপিএফ এর প্রেসিডেন্ট ফাদার মিন্টু পালমা বলেন, “জয়ন্তী উৎসব হলো আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। ফাদার উইলিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিডিপিএফ এ কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি সহসভাপতি হিসেবে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আজকে বাংলাদেশের চার শতাধিক এর অধিক ধর্মপ্রদেশীয় সকল যাজকের নামে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই।”

কারিতাস রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য বলেন, “ফাদার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমাদের কারিতাস বাংলাদেশের সাথে জড়িত। প্রথমে আধ্যাত্মিক পরিচালক এবং পরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আজকের দিনে কারিতাস বাংলাদেশের ৫০০০ কর্মীর পক্ষে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।”

পরিবারের পক্ষে মজেস মুর্মু সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি আপনাদের প্রত্যককে ধন্যবাদ জানাই কারণ আপনারা অনেক কষ্ট করে এখানে এসেছেন এবং অংশগ্রহণ করেছেন। আমাদের ভাই উইলিয়াম এর জন্য আপনাদের এই ভালবাসা যেন সবসময় থাকে এই প্রার্থনাই করি।”

রজত জয়ন্তী শুধু সময়ের পরিমাপ নয়। এটি এক নিষ্ঠাবান আহ্বানের, নিঃস্বার্থ সেবার ও ঈশ্বরের প্রতি অটল বিশ্বাসের সাক্ষ্য। এই দীর্ঘ পথচলায় ফাদার উইলিয়াম মুর্মু তাঁর জীবনকে উৎস্বর্গ করেছেন ঈশ্বরের রাজ্য গঠনে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ভালোবাসা, ক্ষমা ও আশার বাণী ছড়িয়ে দিতে।

ফাদার উইলিয়াম মুর্মুর জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ। যাজকীয় অভিষেক ১৯ জানুয়ারি ২০০১ খ্রিস্টাব্দ আর যাজকীয় জীবনের রজত জয়ন্তী উদযাপন ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। - ডানিয়েল রোজারিও