রাঘবপুর সাধু যোসেফ ক্যাথলিক গীর্জায় পালিত হলো ভেলাঙ্কানী মা মারীয়ার পর্ব
বিগত ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, গভীর শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাঘবপুর সাধু যোসেফ ক্যাথলিক গীর্জায় মহাসমারোহে পালিত হলো ভেলাঙ্কানী মা মারীয়ার পবিত্র জন্মপর্ব।
খ্রীষ্টীয় ক্যাথলিক মন্ডলীর ঐতিহ্য মেনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে রাঘবপুর ধর্মপল্লীতে উপচে পড়ে বিশ্বাসী খ্রীষ্টভক্তদের ভিড়।
মূল উৎসবের পূর্বে টানা নয় দিন ধরে চলে বিশেষ নবাহ প্রার্থনা। প্রতি বছরের মতো এবারও এই নয় দিনে মা মারীয়ার নয়টি বিশেষ রূপ ও উদ্দেশ্যকে স্মরণ করা হয়— আনন্দদায়িনী মা মারীয়া, ক্রুশের তলায় মা মারীয়া, বিশ্ব রাণী মা মারীয়া, স্বর্গের রাণী মা মারীয়া, আরোগ্যদায়িনী মা মারীয়া, শান্তিদায়িনী মা মারীয়া, মানব পরিত্রাতা মা মারীয়া, কৃতজ্ঞচিত্ত মা মারীয়া এবং দর্শনদায়িনী মা মারীয়া।
টানা নয় দিনের এই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি শেষে, দশম দিন অর্থাৎ ৮ই সেপ্টেম্বর সোমবার মূল জন্মোৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের প্রাক্তন ধর্মপাল বিশপ সালভাতোর লোবো এবং রাঘবপুর ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার যোসেফ টোপ্প এস.জে-এর উপস্থিতিতে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে মা মারীয়ার পতাকা অবনমন করা হয়। এরপর গভীর শ্রদ্ধার সাথে উক্ত পতাকায় মাল্যদান ও আরতি করা হয়।
পতাকা অবনমন পর্বের পর রাঘবপুর গীর্জা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। কীর্তন সহযোগে শোভাযাত্রাটি এগিয়ে চলে স্থানীয় সেন্ট পলস বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দিকে, যেখানে পবিত্র খ্রীষ্টযাগের আয়োজন করা হয়। এই খ্রীষ্টযাগ আরম্ভের পূর্বে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। চারজন যুবতী নারীকে মা মারীয়ার চার ভিন্ন রূপ— লুর্দেররানী, আরোগ্যদায়িনী, ব্যান্ডেল রানী এবং সাহায্যকারীণী মা মারীয়া হিসেবে ভক্তদের সামনে প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের বিশেষভাবে আপ্লুত করে।
এরপর সুমধুর স্তুতি বন্দনা ও গানের সাথে প্রবেশিকা নৃত্যের মধ্য দিয়ে বেদির দিকে এগিয়ে যান বিশপ ও পুরোহিতবৃন্দ। উপাসনা বেদীর সামনে বিশপ সালভাতোর লোবো ও পাল পুরোহিত ফাদার যোসেফ টোপ্প-কে বরণ করে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক বরণের পর শুরু হয় মূল উপাসনা পর্ব।
পবিত্র শাস্ত্রের প্রথম পাঠ, দ্বিতীয় পাঠ এবং মঙ্গল সমাচার পাঠের পর উপস্থিত ভক্তমণ্ডলীর উদ্দেশ্যে বিশপ তাঁর মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মা মারীয়ার অসীম অনুগ্রহ এবং সারা বিশ্ব জুড়ে তাঁর অলৌকিক আশ্চর্য দান কীভাবে মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর, শান্তিময় ও আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ করে তুলতে সাহায্য করে।
মা মারীয়ার শুভ জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত প্রত্যেক পরিবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপাসনা বেদীর সামনে বিশেষ অর্ঘ্য দান করেন। খ্রীষ্টযাগ আরম্ভের মুহূর্তে সেইসব অর্ঘ্য পুরোহিত মহাশয় আশীর্বাদ করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে তা পুনরায় সকলের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
উৎসবের মধুর সমাপ্তি ঘটে মা মারীয়ার জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে, যেখানে উপস্থিত সকল খ্রীষ্টভক্তের হাতে উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে কেক তুলে দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে, ভক্তি ও সম্প্রীতির আবহে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হলো মা মারিয়ার জন্মপর্ব উৎসব।
প্রতিবেদন - তন্ময় মন্ডল
