বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের রাজারামপুরে শিশু যীশুর গির্জায় মহা পার্বন দিবস উদযাপিত হল
২৫জানুয়ারির২০২৬,রাজারামপুরে শিশু যীশুর উপাসনালয়ের মহা সমারোহে বাৎসরিক পার্বন দিবস উদযাপিত হল। শিশু যীশুর নামে উৎসর্গিত এই গির্জা,বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের ঠাকুর পুকুর পবিত্র হৃদয় ধর্মপল্লীর অন্তর্গতএকটি উপবিভাগ(Substation)।
সকল পল্লীবাসীদের কাছে দিনটির গুরুত্ব অসীম,কারণ প্রধান যাজক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বাংলাদেশ থেকে আগত মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি' রোজারিও, অবসরপ্রাপ্ত মহা ধর্ম পাল সি.এস.সি.
দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল দশটায়।শুরুতেই কার্ডিনালকে মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর কীর্তন সহ শোভাযাত্রা নৃত্যের মাধ্যমে পুরোহিতদের গির্জা অভিমুখে স্বাগত জানান হয়। ১০:৩০মি. শুরু হয় মহাখ্রীষ্টযাগ। খ্রীষ্টযাগের শুরুতেই অতিথিদের সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে কার্ডিনাল ডি' রোজারিও মহোদয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী
পাঠ করেন গির্জার ক্যাটেকিষ্ট পূর্ণেন্দু সুত্র মহাশয়।খ্রীষ্টযাগে পৌরহিত্য করেন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ও উপাসনায় সহযোগিতা করেন ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফঃ তুষার আগস্টিন গমেজ,ধ্যান আশ্রমের রেক্টর ফ: মাসিল্লামণি এস.জে ও ফ: সেবাস্টিয়ান খালখো এস.জে.।
উপাসনায় উপস্থিত ছিলেন কার্ডিনাল মহোদয়ের কলকাতা স্থিত পরিবারের সদস্য-সদস্যাগণ, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি ও লরেটো সংঘের সিস্টারগণ, নোভিসিয়েট ক্যান্ডিডেট , ব্রাদার ও ক্যাটেকিষ্টগণ, ধর্মপল্লী স্তরে ক্ষুদ্র মণ্ডলীর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ, ধর্মপল্লীর কাউন্সিলের সহ সম্পাদক, প্রতিবেশী CNI মণ্ডলীর সম্পাদক ও প্রতিনিধিগণ এবং আমন্ত্রিত আরও অন্যান্য অতিথিবর্গ।
খ্রীষ্টযাগে সুমধুর সঙ্গীত পরিবেশন,বাইবেল পাঠ, ভক্তদের দ্বারা বিভিন্ন রকম অর্ঘ্য আনয়ন এবং অনুষ্ঠানে ভক্তদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সত্যই প্রাণবন্ত করে তোলে।
খ্রীষ্টযাগের শেষে একটি ছোট্ট সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যার পরিচালনা করেন গির্জার পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ শ্রী রবি নস্কর মহাশয়। মণ্ডলীর পক্ষ থেকে মহামান্য কার্ডিনাল ডি'রোজারিও মহোদয়কে পুষ্প, শাল, টবসহ ফুল গাছ উপহার অর্পণ করে সম্মাননা জানানো হয়। সেই সঙ্গে উপস্থিত অন্য সকল পুরোহিত বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিদের পুষ্প দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এই অনুষ্ঠানে মহামান্য কার্ডিনাল রাজারামপুর গ্রামে আসায় তাঁর যে আন্তরিক উপলব্ধি হয়েছে তা ব্যক্ত করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষে শ্রদ্ধেয় পালপুরোহিত ফাঃ তুষার আগস্টিন গমেজ তাঁর বক্তব্য রাখেন এবং স্থানীয় মণ্ডলীর পক্ষ থেকে ওই দিনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
শেষে সকলের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। আর এই প্রীতি ভোজের মধ্য দিয়েই ওই দিনের উৎসবীয় পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। ----পূর্ণেন্দু সুত (ক্যাটেকিষ্ট) - অনুলিখন – চন্দনা রোজারিও।