নাগরী ধর্মপল্লীর পানজোরা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব

নাগরী ধর্মপল্লীর পানজোরা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব

গত ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দগাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের পানজোরা গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতায় অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব।

নয় দিনব্যাপী নভেনা প্রার্থনা খ্রিস্টযাগ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টভক্তদের আধ্যাত্নিক প্রস্তুতির পর উদযাপিত হলো সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব। এতে বৃদ্ধ হতে শিশু পর্যন্ত মহান সাধু আন্তনীর বিপুল সংখ্যক ভক্তরা তীর্থোৎসবে যোগ দিয়েছেন।

এই তীর্থোৎসবকে কেন্দ্র করে ২টি খ্রিস্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে সকাল টায় প্রথম খ্রিস্টযাগ এবং সকাল ১০টায় দ্বিতীয় খ্রিস্টযাগ।

প্রথম খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ গমেজ এবং দ্বিতীয় খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ বিজয় এন. ডিক্রুশ, সহ অন্যান্য বিশপগণ এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার খ্রিস্টভক্তগণ।

পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে আর্চবিশপ বিজয় এন. ডিক্রুজ বলেন, “সাধু আন্তনীর যে প্রবল ইচ্ছা ছিল যীশুকে পাওয়ার জন্য, আমাদেরও উচিত সাধু আন্তনীর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করা তাহলে খ্রিস্টান হিসেবে আমাদের জীবন পরিপূর্ণ হবে।

নাগরী ধর্মপল্লীর পানজোরা গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব

সাধু আনন্তী ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, ঈশ্বর মানবপ্রেমী, ধার্মিক এবং দয়ালু দরদী এক মহান সাধু। তিনি মানুষকে ঈশ্বরের দয়া লাভ করাতে সর্বদায় সাহায্য করেছেন। দরদী হৃদয় নিয়ে তিনি দরিদ্র পাপীদের নিকট ঈশ্বরের ঐশভালবাসা দয়ার কথা প্রচার প্রকাশ করেছেন,” বলেন আর্চবিশপ ডিক্রুজ।

তীর্থে অংশগ্রহনকারী সাধু আনন্তী ভক্ত মনের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমি প্রতিবছর সাধু আন্তনীর তীর্থ করতে ছুটে আসি কারণ আমার হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সাধু আন্তনীর মধ্যস্থতায় প্রার্থনা করে তা খুঁজে পেয়েছি। সেই থেকে সাধু আনন্তী আমার প্রিয় সাধু। তাই আমি আমার স্ব-পরিবার নিয়ে চলে আসি তাঁর প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা প্রণাম জানাতে।

বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় তীর্থস্থান হচ্ছে এই নাগরীর পানজোরা। আনুমানিক ১৬৬৩ সাল থেকে এই পানজোরা গ্রামে সাধু আন্তনীর স্মরণে তীর্থোৎসব উদযাপন শুরু হয়েছে, যা আজও চলমান রয়েছে।

এই এলাকার মানুষের মুখে মুখে কথিত আছে, একজন কৃষক ঝোপের মধ্যে একটি মূর্তি দেখতে পান। তিনি স্থানীয় নাগরী ধর্মপল্লীর পুরোহিতকে জানান। পুরোহিত মূর্তিটি গির্জায় নিয়ে আসেন। পরদিন আবার মূর্তিটি সেই ঝোপে চলে যায়। আবার গির্জায় নিয়ে আসা হয়। রকম কয়েকবার হয়। তখন মূর্তিটি যে ঝোপে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে একটি গ্রোটো তৈরি করে মূর্তিটি রাখা হয়।

তারপর থেকেই পানজোরা গ্রামের খ্রিষ্টভক্তরা এসে প্রার্থনা করতেন। অনেকেই তাঁদের প্রার্থনার ফল পান। তাঁদের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে আরও অনেকে আসতে থাকেন। এইভাবেই মহান সাধু আন্তনীর প্রতি মানুষের ভক্তি বিশ্বাস বাড়তে থাকে।

মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসবে অংশগ্রহণকারীগণ

সাধু আন্তনীর কাছে নানা বিষয়ে প্রার্থনা করা হলেও হারানো বস্তু খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনার বিশেষ রেওয়াজ আছে। সাধু আন্তনীর কাছে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নানা ধর্মে মানুষ মানত করেন। তাঁদের অনেকেই সুফল পেয়েছেন। তাঁরা আসেন অনুষ্ঠানে মানতের বস্তু বা প্রাণী নিয়ে।

জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ থেকেও হাজার হাজার সাধু আন্তনীর ভক্ত এই তীর্থোৎসবে যোগদান করে, প্রার্থনা করে, মানত রাখে এবং পূর্বের রেখে যাওয়া মানতের জন্য সাধু আন্তনীর মাধ্যমে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান।

সাধু আন্তনী হচ্ছেন সবার প্রিয় সাধু। তিনি ১৫ আগস্ট ১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে, পর্তুগালের বর্তমান রাজধানী লিসবন শহরের জন্মগ্রহণ করেন। তার কর্মজীবন কাটে ইতালির পাদুয়ায়। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

বাংলাদেশে দিন দিন সাধু আন্তনী ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর তাঁর সাক্ষ্য মেলে এই গাজীপুর জেলার এই নাগরী পানজোড়া গ্রামে। খ্রিস্টভক্তদের বিশ্বাসে আরো বিশ্বাসী হতে সহায়তা করছে বিশ্বের জনপ্রিয় সাধু পাদুয়ার সাধু আন্তনী। - আরভিএ সংবাদ