এশিয়ায় সিনোডাল ও মণ্ডলীভিত্তিক যাজক গঠনে এফএবিসি‘র যাজকীয় দপ্তরে গুরুত্বারোপ
আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস' কনফারেন্স (এফএবিসি)-এর দ্বাদশ প্লেনারি সম্মেলনকে সামনে রেখে এফএবিসির যাজকীয় দপ্তর এশিয়ায় আধ্যাত্মিকভাবে, মণ্ডলীমুখী এবং সিনোডাল চেতনা সম্পন্ন যাজক গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
২০০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই দপ্তরের লক্ষ্য হলো এশিয়ার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিশপ, যাজক ও সেমিনারি পরিচালকদের সহায়তা করা এবং এমন যাজক গড়ে তোলা, যারা বিশপদের সহযোগী হিসেবে অংশগ্রহণমূলক ও সেবাধর্মী মণ্ডলী গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
দপ্তরটি সেমিনার, পরামর্শসভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক ও চলমান যাজক গঠন, সেমিনারির নবায়ন এবং যাজকদের পালকীয় সহায়তা নিয়ে কাজ করে আসছে। ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যাজক পরিচয়, মানবিক গঠন, কৌমার্য, মণ্ডলীর সমসাময়িক সংকট এবং সুসমাচার প্রচারে যাজকদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দপ্তরটি বিশেষভাবে সিনোডাল গঠন-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে অনলাইন সেমিনারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সিনোডাল যাজক গঠনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে এশিয়ার মেজর সেমিনারিগুলোর পরিচালকদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে এফএবিসি-৫০ দলিল এবং সিনোড অন সিনোডালিটি-এর আলোকে সেমিনারিগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এফএবিসির যাজকীয় দপ্তরের মতে, সিনোডাল গঠন আজকের মণ্ডলীর অন্যতম অগ্রাধিকার। এটি যাজকদের একক নেতৃত্বের পরিবর্তে যৌথ দায়িত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রবণ এবং সহযাত্রার মনোভাব গড়ে তুলতে আহ্বান জানায়। দপ্তরটি মনে করে, সিনোডালিটি কেবল একটি কর্মসূচি নয় বরং এটি মণ্ডলীতে জীবনযাপনের একটি ধারা, যা বিশেষ করে ডিজিটাল যুগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জের মুখে খ্রিস্টের সেবাধর্মী নেতৃত্বকে ধারণ করার আহ্বান জানায়।
বর্তমানে এফএবিসির যাজকীয় দপ্তরের চেয়ারম্যান আর্চবিশপ উদুমালা বালা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ প্লেনারি সম্মেলন এশিয়ার মন্ডলীতে সিনোডাল জীবনধারা এবং যাজকদের পরিচয়, ভূমিকা ও গঠন নিয়ে চলমান ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। - আরভিএ সংবাদ।
