রাঘবপুর সাধু যোসেফ ক্যাথলিক গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র হস্তরর্পণ সংস্কার
বিগত ২৫শে জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার সকাল ৭ ঘটিকায় রাঘবপুর সাধু যোসেফ ক্যাথলিক গির্জায় অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র হস্তরর্পণ সংস্কার। হস্তরর্পণ সংস্কার অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় রাঘবপুর সেন্ট পলস স্কুলের নতুন বিল্ডিং নীচে ।
ক্যাথলিক মন্ডলীতে এই পবিত্র হস্তরর্পণ সংস্কার প্রদান করে থাকেন ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল। সেই উপলক্ষে এই বিশেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল শ্রদ্ধেয় বিশপ শ্যামল বোস মহাশয়, যীশু সংঘের প্রভিন্সিয়াল ফাদার আর্জেন টেটে এস.জে মহাশয়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাঘবপুর ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার যোসেফ টোপ্পো এস জে মহাশয় এবং সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার যোসেফ পুলিকান এস.জে, ফাদার দেবিশিয়াস এস.জে, ফাদার ই এস যোসেফ এস.জে, ফাদার আরুল যোসেফ এস.জে, ফাদার স্টিফেন এস.জে, ব্রাদারগণ, মাগুরখালী সাধ্বী আন্না সমাজের সুপিরিয়র সিস্টার অর্পিতা ডি.এস.এ ও গোবরাচক সাধ্বী আন্না কনভেন্টের সুপিরিয়র সিস্টার বিনীতা ডি.এস.এ ও অন্যান্য সিস্টারগণ।
উক্ত এই দিন হস্তরর্পণ সংস্কার গ্রহণ করে ধর্মপল্লীর ১১৪ জন যুবক-যুবতী। গির্জার সাতটি সাব সেন্টার ও মূল গির্জার যুবক-যুবতীদের এই পবিত্র হস্তরর্পণ সংস্কার দেওয়া হলো ।
সকাল সাতটায় উপাসনা আরম্ভ হয়। প্রবেশিকা গীতির মাধ্যমে সকল হস্তরর্পণ গ্রহনযোগ্য যুবক-যুবতী, সেবক দল ও পুরোহিত বর্গ এবং বিশপ মহোদয়কে শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। উপাসনা বেদীর সামনে পুরোহিত বর্গ ও বিশপ মহোদয়কে বরণ করা হয়। এরপর পুরোহিত বর্গ ও বিশপ মহোদয়কে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে বরণ করা হয় এবং মূল উপাসনা শুরু হয়।
যে সমস্ত যুবক-যুবতীরা হস্তরর্পণ সংস্কার গ্রহণ করবে তাদের মধ্যে থেকেই প্রথম পাঠ ও দ্বিতীয় পাঠ করা হয়। পাল পুরোহিত মহাশয় মঙ্গল সমাচার পাঠ করেন এবং বিশপ মহোদয় তাঁর মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেন সকলের উদ্দেশ্যে।
পরবর্তী পর্যায়ে উপাসনা বেদীর সামনে বিশপ মহোদয় হস্তরর্পণ সংস্কার প্রদান করেন যুবক যুবতীদের। পবিত্র আত্মার প্রত্যেকটা গুন যেন তাদের অন্তরে বিরাজ করে, তারা যেন পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে উদ্দেশ্যে। এই সংস্কার দেওয়ার সময় দুজন ধর্ম পিতা-মাতাও বিশপের পাশে উপস্থিত ছিলেন।
খ্রীষ্টযাগ শেষে বিশপ মহোদয় সকলকে বিশেষ আশীর্বাদ প্রদান করেন। তারপর সকল হস্তরর্পণ গ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট ও যীশুর ঐশ করুনার ছবি উপহার হিসেবে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয় । সবশেষে যুবক-যুবতীদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা করা হয় ।
যুবক-যুবতীরা হস্তরর্পণ সংস্কার গ্রহণ করে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে চলার পথে পবিত্র আত্মার ঐশ জ্ঞান, ঐশ প্রজ্ঞা এবং পবিত্র আত্মার অপার করুনা ও মহিমা যেন উপলব্ধি করতে পারে ।
প্রতিবেদন - তন্ময় মন্ডল