এফএবিসি সহ-সভাপতি: ‘আমরা যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে ভীত না হই’
২৬ জুলাই জাকার্তার ক্যাথিড্রাল “অব আওয়ার লেডি অব দ্য অ্যাসাম্পশন”এর পালকীয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কার্ডিনাল ডেভিড বলেন, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে ভয়ের কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এশিয়ার বহুভাষিক মানুষের যোগাযোগ ও মঙ্গলসমাচার প্রচারের কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার বিশপদের সাম্প্রতিক পালকীয় বার্তাটি “বাহাসা ইন্দোনেশিয়া” ভাষায় প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা -নির্ভর অনুবাদের মাধ্যমে সেটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিকদের কাছে সহজেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, মানবিক বিচার-বিবেচনা ছাড়া এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কার্ডিনাল ডেভিড জানান, তিনি বিভিন্ন এআই অনুবাদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা কিংবা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট অনুবাদের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ভুল থেকে যায়। তাই মানুষের দিকনির্দেশনা ও সঠিক প্রেক্ষাপট ছাড়া এআই নিখুঁত ফল দিতে পারে না।
তিনি বলেন, “এআইকে একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীর মতো বিবেচনা করুন। আপনি তাকে যত ভালো তথ্য ও নির্দেশনা দেবেন, সে তত ভালো ফল দেবে।” তাঁর মতে, ব্যবহারকারীরা যত উন্নত নির্দেশনা দেবেন এবং প্রয়োজনীয় উপাদান যোগ করবেন, অনুবাদ ও অন্যান্য কাজে এআই তত বেশি কার্যকর হবে।
কার্ডিনাল ডেভিড অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এক সময় মানুষ আশঙ্কা করেছিল ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটর গণিত শেখার ক্ষতি করবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি; বরং গণিতচর্চা আরও উন্নত হয়েছে। একইভাবে এআই মানুষের সৃজনশীলতা বা বুদ্ধিমত্তাকে কমিয়ে দেবে না; বরং দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সহযোগিতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
শেষে তিনি বলেন, “আমরা যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা ভীত না হই। ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু আসবে। আমাদের শুধু এটিকে আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করতে শিখতে হবে।” - আরভিএ সংবাদ।
