প্রকৃত প্রতিবেশী হয়ে উঠতে এশিয়া মণ্ডলীর প্রতি এফএবিসি‘র আহ্বান

আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়ায়  ,অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্সেসের (এফএবিসি) দ্বাদশ প্লেনারি সন্মেলনকে  সামনে রেখে এফএবিসির সুসমাচার প্রচার দপ্তরের (FABC-OE) চেয়ারম্যান ,মালয়েশিয়ার আর্চবিশপ সাইমন পোহ এশিয়ার ক্যাথলিকদের খ্রিস্টের করুণা, দয়া ও আরোগ্যের বার্তা নিয়ে ‘আশার সঙ্গী’ হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় আর্চবিশপ পোহ বলেন, “নানা সংস্কৃতি, জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মিলনভূমি এশিয়া দীর্ঘ ইতিহাসে সংঘাত, ঔপনিবেশিক শাসন ও বিভেদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও এখানকার মানুষ এখনও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আকাঙ্ক্ষা লালন করে।”

তিনি বলেন, “পোপ ফ্রান্সিসের জাকার্তা সফরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সংহতির আহ্বান এফএবিসির এই প্লেনারি সভার মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। এশিয়ার মণ্ডলীর দায়িত্ব কেবল সুসমাচার ঘোষণা করা নয়, বরং মানুষের জীবনে খ্রিস্টের করুণা, পুনর্মিলন ও আরোগ্যের সাক্ষ্য বহন করা ।“

বাইবেলে বর্ণিত সামারীয় মেয়েটির  দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে আর্চবিশপ পোহ বলেন, খ্রিস্টানদের উচিত কষ্ট, অবিচার ও প্রান্তিকতার শিকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত প্রতিবেশী ও আশার সঙ্গী হয়ে ওঠা। তিনি বলেন, সুসমাচার প্রচারের কার্যকর পথ হলো বন্ধুত্ব, সহযাত্রা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে একেকজন মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া।

আর্চবিশপ পোহ আরও জানান, এফএবিসির সুসমাচার প্রচার দপ্তর, আন্তঃগির্জা ও আন্তধর্মীয় বিষয়ক দপ্তর এবং ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ক দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এশিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এর লক্ষ্য আদিবাসীদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া, সুসমাচার ও আদিবাসী সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের টেকসই জীবনচর্চা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এশিয়াজুড়ে ক্যাথলিকদের জীবন ও সেবার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টের করুণা, পুনর্মিলন ও আরোগ্যের ভালোবাসা আরও দৃশ্যমান হবে এবং তা শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image