পরিবেশ বিভাগে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার পেলেন জেসুইট পুরোহিত
বিগত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ কলকাতার জেসুইট পুরোহিত ফাদার জুলিয়ান এস. দাস তাঁর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ঘোড়ামারা: দ্য সিঙ্কিং আইল্যান্ড’ ছবির জন্য পরিবেশ বিভাগে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কারে ভূষিত হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।
জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও ডোগরি ভাষাবিশেষজ্ঞ, পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত অধ্যাপক ললিত মাগোত্রা প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক উমেশ রায়ও।
ট্রফি গ্রহণ করে জেসুইট পুরোহিত এই সম্মান ঘোড়ামারার মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, দ্বীপবাসীদের অটল আশা ও দ্বীপের প্রতি তাঁদের অকৃত্রিম টান প্রত্যেকটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সংস্থা ‘কনসোর্টিয়াম ফর এডুকেশনাল কমিউনিকেশন (CEC)’ আয়োজিত ১৭তম প্রকৃতি আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র উৎসবে আহ্বান করা ৭২টি ছবির মধ্যে আটটি ছবি নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে চারটি ছবিকে ট্রফি, সনদপত্র ও ৫০,০০০ টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং বাকি চারটি ছবিকে প্রদর্শন ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ফাদার জুলিয়ান ট্রফি, সনদপত্র ও নগদ পুরস্কার লাভ করেন।
জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, অধ্যাপক এবং সিইসি-র পরিচালক অধ্যাপক পরিক্ষিত সিং মানহাস বলেন, “প্রামাণ্যচিত্র সত্যের প্রতিফলন এবং সমাজে পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।“ তিনি পরিবর্তনের লক্ষ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নির্মাতাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
দিনের শুরুতে ২৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘ঘোড়ামারা: দ্য সিঙ্কিং আইল্যান্ড’ ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনের পর পরিচালক-প্রযোজক ফাদার জুলিয়ানের সঙ্গে দর্শকদের সাথে এক আলাপচারিতা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, “গত তিন বছর ধরে তাঁর দল ঘোড়ামারার জীবনচিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে।“
দর্শকদের সঙ্গে আলোচনায় জেসুইট পুরোহিত জানান, গত ছয় বছর ধরে তিনি প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন এবং সম্প্রতি কলকাতার এডুকেশনাল মাল্টিমিডিয়া রিসার্চ সেন্টারে গবেষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটি দ্বীপের জীবন নিয়ে নির্মিত ছয় পর্বের একটি ধারাবাহিকের অংশ। অন্যান্য পর্বগুলিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকানির্বাহের উপায়, সবুজ দ্বীপ ও দ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বসবাসকারী মানুষের জীবনকে পুনরায় উপস্থাপন করা সহজ ছিল না। চিত্রগ্রহণের সময় দলের সদস্যদের থাকা-খাওয়ার নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবুও ধীরে ধীরে তারা দ্বীপবাসীদের এতটাই কাছের হয়ে ওঠেন যে, দ্বীপের যেকোনো প্রান্তে মানুষ তাঁদের সহজেই চিনে নিতেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতেন।“
ঘোড়ামারা প্রকল্পে ইএমআরসি কলকাতার পক্ষ থেকে ফাদার জুলিয়ানের প্রযোজনা দলে ছিলেন চিত্রগ্রাহক জন্মজয় সিং ও সত্যেন্দ্র সাহু; প্রযোজনা সহকারী সুমন ব্যানার্জি ও শ্যাম সুন্দর পাল; শব্দ পরিকল্পনা ও সম্পাদনা করেন শ্যাম সুন্দর পাল; চিত্রনাট্য রচনা করেন ফাদার জুলিয়ান; এবং কারিগরি সহায়তা দেন বাবু সান্ত্রা ও অনোজ সাহা।
প্রতিবেদন- ফাদার জেমস বিবেকানন্দ এস.জে.
অনুবাদ - তেরেসা রোজারিও