মন্সিনিয়র তোমাশ: বৈশ্বিক পরিবর্তনে আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ গড়ে তোলার আহ্বান
এশিয়ান বিশপস্ সম্মেলন ফেডারেশনের (এফএবিসি) ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলিতে মন্সিনিয়র তোমাশ ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, চেক প্রজাতন্ত্র থেকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশপ ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব আজ গভীর বৈশ্বিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই পরিবর্তনের সময়ে ঈশ্বরের প্রতি এবং একে অপরের প্রতি আরও গভীর মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শ্রবণ করতে হবে।
সদ্য চলমান এই এফএবিসি অধিবেশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে না পারলেও তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারে কিন্তু বিশ্বাস থেকে উৎসারিত প্রকৃত ঐক্য ও অন্তরঙ্গতার বিকল্প হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন “প্রযুক্তি ভৌগোলিক দূরত্ব দূর করতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিও প্রকৃত নৈকট্য সৃষ্টি করতে পারে না। সেই নৈকট্য জন্ম নেয় আমাদের বিশ্বাস এবং মণ্ডলী ও আমাদের প্রভুর প্রতি আমাদের অভিন্ন দায়বদ্ধতা থেকে।”
উল্লেখ্য তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের যুগে আধ্যাত্মিক বিবেচনাবোধের গুরুত্ব “
তিনি বলেন “আমাদের কাছে যত বেশি তথ্য থাকবে, সেগুলো বিচার-বিবেচনা করার জন্য তত বেশি প্রজ্ঞার প্রয়োজন হবে।”তাঁর মতে, আজকের জটিল বাস্তবতার মোকাবেলায় কেবল জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়।
মন্সিনিয়র হালিক বিশপদের আহ্বান জানান, এফএবিসির এই প্লেনারি অ্যাসেম্বলিকে শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সভা হিসেবে নয়, বরং পবিত্র আত্মার আহ্বান একসঙ্গে শ্রবণের মাধ্যমে মণ্ডলীর রুপান্তরের দিক বাস্তবায়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে।
তিনি যোহন রচিত সুসমাচার (১:৫০)-এর“তোমরা এর চেয়েও বেশি কিছু দেখতে পাবে”। এই বাণী উদ্ধৃত করে প্রশ্ন তোলেন, আজ ঈশ্বর তাঁর মণ্ডলীকে কোন “বৃহত্তর বিষয়” উপলব্ধি করতে আহ্বান জানাচ্ছেন?
তাঁর মতে, প্রকৃত সিনোডাল রূপান্তর কাঠামো বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয় না; বরং ঈশ্বরের প্রতি, একে অপরের প্রতি এবং বিশ্বের বাস্তবতার প্রতি নতুনভাবে শ্রবণ করার মানসিকতার মধ্য দিয়েই এর সূচনা হয়।
তিনি প্রতিটি সিনোডাল মণ্ডলীকে “বিবেচনাবোধের বিদ্যালয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যেখানে ঈশ্বরের জনগণ দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাগুলোর মধ্যেও ঈশ্বরের উপস্থিতি চিনতে শেখে।
তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি সিনোডালিটি, আধুনিক সভ্যতার সংকট এবং প্রজ্ঞা, সংলাপ ও গভীর সম্পর্কের মাধ্যমে আশার বার্তা বহন করার ক্ষেত্রে মণ্ডলীর কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এফএবিসির সপ্তাহব্যাপী প্লেনারি অ্যাসেম্বলি চলমান থাকলেও মন্সিনিয়র হালিকের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সিনোডাল যাত্রা কেবল একসঙ্গে পথচলার নাম নয়; এটি প্রার্থনাপূর্ণ বিবেচনাবোধের মাধ্যমে আরও গভীরভাবে দেখতে শেখার একটি আহ্বান, যাতে মণ্ডলী ঈশ্বর আজও যে “বৃহত্তর বিষয়” প্রকাশ করে চলেছেন, তা চিনতে ও গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।- আরভিএ সংবাদ।
