কার্ডিনাল তাগলে: “শিশুর প্রথম হাঁটার মতোই সিনোডাল মণ্ডলী ও একসঙ্গে চলতে শেখে”
কার্ডিনাল লুইস আন্তোনিও তাগলে বলেছেন, সিনোডাল মণ্ডলী হিসেবে ‘একসঙ্গে চলা’ কেবল একটি ধারণা নয়, বরং এটি একটি শিশুর প্রথম হাঁটা শেখার মতো ধৈর্য, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুন্দর যাত্রা। ২২ জুলাই জাকার্তায় এফএবিসির ১২তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের প্রার্থনা ও আত্মমূল্যায়নের দিনে অনুষ্ঠিত আধ্যাত্মিক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি শিশু প্রথম হাঁটতে শেখার আগে হামাগুড়ি দেয়, শরীরের শক্তি অর্জন করে, ভারসাম্য রক্ষা করতে শেখে এবং পরিবারের উৎসাহ ও নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজন হয়। একইভাবে, সিনোডাল মণ্ডলীকেও একসঙ্গে চলতে হলে আধ্যাত্মিক শক্তি, পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।
নিজের ৯৬ বছর বয়সী বাবা-মায়ের উদাহরণ তুলে ধরে কার্ডিনাল তাগলে বলেন, তাঁর বাবা আর হাঁটতে পারেন না, আর মা অন্যের সহায়তায় চলাফেরা করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, যারা আর চলতে পারেন না, তাদের সঙ্গে পথচলার অর্থ হলো তাদের পাশে থাকা। তিনি বলেন, “আপনি তার হাত ধরে থাকেন, কানে ফিসফিস করে বলেন যে তিনি একা নন।”
তিনি আরও বলেন, “সিনোডাল পথচলার সাফল্য কেবল দ্রুত অগ্রগতিতে নয়; বরং ধৈর্য, মনোযোগ এবং দুর্বলদের পাশে থাকার মধ্যেই এর প্রকৃত পরিচয় নিহিত।”
মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক, ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রবণতা মানুষকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে। অথচ সিনোডাল জীবন বিশ্বাসীদের একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সাক্ষাৎ করা এবং অন্যের সঙ্গে মতামত মিলিয়ে চলতে আহ্বান জানায়।
শেষে কার্ডিনাল তাগলে প্রতিনিধিদের আহ্বান জানান, মণ্ডলী যেন ‘একসঙ্গে চলার’ কথা বলার আগে ধৈর্য, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযাত্রার প্রকৃত অর্থ শিখে নেয় যেখানে একা কেউই পথ চলে না।- আরভিএ সংবাদ।
