বনপাড়া লুর্দের রাণী মারীয়া ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো মা মারীয়ার মহাপর্বোৎসব
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বনপাড়া লুর্দের রাণী মারীয়া ধর্মপল্লীতে উদযাপিত হলো মা মারীয়ার মহাপর্বোৎসব ।
এই পর্ব দিবসকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টভক্তদের আধ্যাত্নিক প্রস্তুতি স্বরুপ নয় দিনের নভেনা প্রার্থনা, পবিত্র খ্রিস্টযাগ, পাপস্বীকার সংস্কার, ও মানত দানের মাধ্যমে ধর্মপল্লীর বহুসংখ্যক মারীয়া ভক্ত এই পর্বদিবসে যোগদান করে।
এছাড়াও এই পর্বদিন উপলক্ষে আগের দিন সন্ধ্যায় আলোক শোভাযাত্রা ও নিরাময় অনুষ্ঠান করা হয়।
এই পর্ব দিবসের খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি তাঁর উপদেশ বাণীতে বলেন, “মা মারীয়া যিশুর মা। যিশু ক্রুশে থেকে মা মারীয়াকে আমাদেরও মা করে রেখে গিয়েছেন। মা মারীয়ার মধ্যস্থায় আমরা যখন ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি ঈশ্বর তখন আমাদের প্রার্থনা পূরণ করে দেন।”
তিনি আরও বলেন, “খ্রিস্টভক্তবিশ্বাসী হিসেবে আমাদের প্রধান পরিচয় হচ্ছে আমরা প্রার্থনাশীল মানুষ। তবে পরিবার ও ব্যক্তিজীবন থেকে প্রার্থনা হারিয়ে গেলে আমাদের পরিচয়ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। তাই রবিবারে খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ ও প্রার্থনাপূর্ণ জীবনযাপন প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।”
পর্বে অংশগ্রহণকারী সন্ধ্যা পিরিচ তাঁর মনের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আজকে লুর্দের রাণী মা মারীয়ার পর্ব পালন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। দিনে দিনে পর্বের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছরই আশেপাশের অন্যান্য ধর্মপল্লীর জনগণও পর্বে যোগদান করছেন।”
“আমার দৃঢ় বিশ্বাস মা মারীয়ার মধ্যস্থায় ঈশ্বরের নিকট থেকে আমরা আমাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারবো,” বলেন পিরিচ।
ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার দিলীপ এস. কস্তা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ফ্রান্সের লুর্দ নগরে বার্ণাডেটের নিকট মা মারীয়া দর্শন দিয়ে মন পরিবর্তন ও প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে মা মারীয়া আমাদেরও মন পরিবর্তন ও প্রার্থনার অনুরোধ জানান।”
তিনি আরও বলেন, “লুর্দের রাণী মা মারীয়ার পর্ব পালন করতে পেরে বনপাড়ার খ্রিস্টভক্তগণ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তবে খ্রিস্টভক্তগণের উপস্থিতি শুধুমাত্র যেন পর্বকেন্দ্রিক না হয়ে সপ্তাহের অন্যান্য দিনও হয়।”
পর্বে অংশগ্রহণকারী সাগর গমেজ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “মা মারীয়ার কাছে আমার পরিবারের জন্য মানত ছিল। একই সাথে আমার পরিবারের শান্তি, সারা বিশ্বের শান্তির জন্য আমি প্রার্থনা করেছি।” - বরেন্দ্রদূত সংবাদদাতা