রাজরামপুর শিশু যীশু গির্জার ৯৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন
২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুরপুকুর প্রধান ধর্মপল্লীর অন্তর্গত উপকেন্দ্র রাজরামপুর শিশু যীশু গির্জায় অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হলো শিশু যীশু মহোৎসব এবং গির্জার প্রতিষ্ঠার ৯৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে কৃতজ্ঞতার বিশেষ দিবস।
এই পবিত্র মিসা উৎসর্গের প্রধান উদ্যাপনকারী (Main Celebrant) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি, ঢাকা আর্চডায়োসিসের অবসরপ্রাপ্ত আর্চবিশপ, বাংলাদেশ। তাঁর সঙ্গে পবিত্র মহামিসা উদযাপন করেন ঠাকুরপুকুর গির্জার পালক পুরোহিত ফাদার তুষার আগস্টিন গোমেজসহ অন্যান্য যাজকবৃন্দ।
উদযাপনের সূচনা হয় সকাল ১০টায় এক ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে, যা গির্জার দিকে অগ্রসর হয়। সকাল ১০:৩০ মিনিটে শুরু হয় পবিত্র মহামিসা। এই উপলক্ষে গির্জা প্রাঙ্গণ ও বেদী ফুল ও বেলুনে সুসজ্জিত করা হয়, যা সমগ্র পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রার্থনাময় ও উৎসবমুখর। এই সুন্দর আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের পরিশ্রম ও নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
গানের দলের সুমধুর গান ও ভাবপূর্ণ উপস্থাপনা প্রার্থনার পরিবেশকে আরও গভীর করে তোলে এবং উপস্থিত বিশ্বাসীদের হৃদয়কে ঈশ্বরের দিকে আকৃষ্ট করে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজরামপুর উপকেন্দ্রের পাশাপাশি প্রধান প্যারিশ ঠাকুরপুকুর থেকেও বহু বিশ্বাসী, ধর্মশিক্ষক (Catechists) ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেশে কার্ডিনাল মহোদয় শিশু যীশুর প্রেম, আশীর্বাদ ও কৃপা সম্পর্কে গভীরভাবে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন,
“যত বেশি আমরা যীশুকে সম্মান করি, তত বেশি তিনি আমাদের আশীর্বাদে পূর্ণ করবেন।”
এছাড়াও তিনি পোপের বিভিন্ন বার্তা বিশ্বাসীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং তাঁর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পোপের আশীর্বাদ সকলের কাছে পৌঁছে দেন।
পবিত্র মহামিসার শেষে কার্ডিনাল মহোদয় উপস্থিত সকল বিশ্বাসীদের জন্য বিশেষ আশীর্বাদ প্রদান করেন। মিসার পর সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
এই দিনটি ছিল প্রধান প্যারিশ ও চারটি উপকেন্দ্রের বিশ্বাসীদের একত্রিত হয়ে প্রার্থনা, ঐক্য ও কৃতজ্ঞতায় মিলিত হওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। সত্যিই এটি ছিল ঈশ্বরের আশীর্বাদে ভরা প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতার এক স্মরণীয় দিন।
প্রতিবেদন - রিচার্ড নস্কর