উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক চেতনাও আবশ্যক: দক্ষিণ কোরীয় যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ
প্রযুক্তিতে অত্যন্ত উন্নত ও ডিজিটালভাবে সংযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যাথলিক প্রচার কাজে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় সাংবাদিক ও যোগাযোগ গবেষক ড. আন্না জিহিউন ইউ।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, কেজন সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম এশিয়ান ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি অ্যাসেম্বলি-র “এশিয়ার বাস্তবতাকে বোঝা” (Understanding Asia Realities) প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই সম্মেলনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি, যোগাযোগকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতারা অংশ নেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দিয়ে ড. আন্না বলেন, দেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় রয়েছেন এবং প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে। কিন্তু প্রযুক্তিগত সংযোগ বৃদ্ধি পেলেই মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বা ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় না।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্যাথলিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও নিয়মিত রবিবারের মিশাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে ডিজিটাল সংযোগ ও মন্ডলীর ধর্মীয় জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ড. আন্নার মতে, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কেনাকাটা ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা, তরুণদের মধ্যে একাকিত্বও বাড়াতে পারে। তাই, প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি সরাসরি মানবিক সম্পর্ক স্থাপন ও যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি হাতে লেখা একটি নোট সঙ্গে এনেছিলেন। তাঁর মতে, এটি পুরোনো এবং মানবিক যোগাযোগের একটি প্রতীক যা, আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তির যুগেও “মানবিক স্পর্শ” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উক্ত এই আলোচনায় তাই “হাই-টেক” ও “হাই-টাচ”—এই দুইয়ের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মন্ডলী আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি ও মানুষের পাশে থাকা।
এশিয়ার ডিজিটাল মিশনারিদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—প্রযুক্তিগত উন্নতিই কার্যকরী ধর্মপ্রচার নয়। প্রযুক্তিকে মানবিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই হবে ডিজিটাল যুগে মন্ডলীর বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদন - রেডিও ভেরিতাস এশিয়া
অনুবাদ - তেরেসা রোজারিও
